কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

 

কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে জানার আগে একটু ভাবতে হবে যে একটি ছোট কমলার মধ্যে কত ধরনের শক্তি, রহস্য ও গুণ রয়েছে। কমলা খুবই সুস্বাদু আর স্বাদ বিশিষ্ট ফল। তার ঝাঁঝালো ঘ্রাণ আমাদের মনকে ভালো করে দেয়, আবার কমলাতে থাকা ভিটামিন সি আপনাকে করে তুলবে আরো সতেজ।
কমলা-খাওয়ার- উপকারিতা-ও- অপকারিতা

 তবে আমাদের মনে রাখতে হবে সব ভালো জিনিসেরই একটা সীমা থাকে, যা সম্পর্কে জানা  আমাদের জরুরী। তাই আজকে আমরা কমলার মিষ্টি,টক জগতের সেই লুকানো উপকার আর সতর্কতার দিকগুলোর সম্পর্কে জেনে নিব। 

পেজ সূচিপত্রঃ(কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা)

কমলা কেন এত বেশি জনপ্রিয়

কমলা এমন একটি ফল যা তার রং, স্বাদ এবং অসাধারণ সুগন্ধ দিয়ে মুহূর্তেই আমাদের মন ভালো করে দিতে পারে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে কমলার সহজলভ্য হওয়ার কারণে এটি সারা বছর জনপ্রিয় থাকে। কিন্তু শুধু সহজলভ্য হলেই তো জনপ্রিয়তা আসে না কমলার ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য পুষ্টিগণ যেগুলো স্বাস্থ্যকে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাখে। কমলা ভিটামিন সি তে ভরপুর হাওয়ায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সতেজতা এনে দেয় এবং শরীরকে প্রাণবন্ত রাখে। শিশু থেকে বয়স্ক সবার জন্য কমলা একটি নিরাপদ উপকারী ফল ।কমলার এতসব গুনের জন্য কমলা একটি জনপ্রিয়  ফল।

কমলার টক, মিষ্টি রস খুব সহজেই রিফ্রেশ করে এবং গরমের দিনে দারুন কাজ করে। শুধু তাই নয় কমলার আনটি  অক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল রাখে এবং চুল কেউ শক্তিশালী করে। খাবারের পর একটি কমলা হজমে সহায়তা করে, কারণ  এর ফাইবার পেট কে পরিষ্কার করে, সুস্থ রাখে। এসব কারণে মানুষ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কমলাকে রাখতে পছন্দ করে। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তি, ডায়েট ফলো করা মানুষ কিংবা সৌন্দর্য বাড়াতে তরুণীরা সবার তালিকায় কমলা একটি জনপ্রিয় ফল।

 জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে একটি বাস্তবতা আমাদের মনে রাখতে হবে কমলা যেমন উপকারীতা আছে তেমনি কিছু অপকারী দিক রয়েছে। অতিরিক্ত কমলা খাওয়ার ফলে এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিত মাত্রায় খাওয়া উচিত। এ কারণে অনেকেই কমলা খাওয়ার আগে জানতে চান কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কি?

 প্রকৃতপক্ষে একজন মানুষ যখন জানেন কখন, কিভাবে এবং কতটা কমলা খাওয়া উচিত? তখন তিনি সহজেই এর উপকার পেতে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় কমলা একটি আদর্শ ফল কারণ এটি শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে শক্তি যোগায় এবং রোগ থেকে বাঁচতে আমাদের সহায়তা করে। বাজারে সহজে পাওয়া যায় দাম ও তুলনামূলক কম এই কারণগুলো কমলা কে সাধারণ মানুষের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে। এক ফলে যখন স্বাদ, স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য ও পুষ্টির চারটি সুবিধা মিলে তখন তার জনপ্রিয় না হয়ে পারে। তাই মানুষ যখন জানতে চায় কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে তখন  তারা এই ফলটির বহুমুখী গুণ সম্পর্কে আরো সচেতন হতে চায়।কমলার এত এত গুন পৃথিবীর অন্যতম প্রিয় ফল বানিয়ে রেখেছে।

আরো পড়ুনঃ

কমলার ভিটামিন ভাণ্ডার

কমলা এমন একটি ফল যা স্বাদে যেমন অনন্য তেমনি পুষ্টিগুনেও সমৃদ্ধ। বিশেষ করে ভিটামিনের দিক থেকে এটি একটি ছোট শক্তিশালী ভান্ডার। কমলায় সবচেয়ে বেশিতে ভিটামিন সি থাকে তা হল ভিটামিন সি প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি বড় অংশ একটি মাঝারি আকারের কমলা থেকে পূরণ করা যায়। এই ভিটামিন রোগ প্রতিরধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, সাথে সর্দি, কাশি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। শরীরকে ভাইরাস জনিত সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, একই সঙ্গে এটি ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরি করতে সাহায্য করে যা ত্বককে  উজ্জ্বল ও টাইট রাখতে সাহায্য করে। 
এছাড়াও কমলায় রয়েছে ভিটামিন এ যা চোখের দৃষ্টিকোণ শক্তিশালী রাখতে এবং ত্বক ও  চুলকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কমলায় জেসব ভিটামিন রয়েছে তার মধ্য  হল ভিটামিন বি গ্রুপ যেমন বি১,বি৬, এবং ফলেট যা শরিরে শক্তি উৎপাদন করে।এই ভিটামিন গুলো মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বাড়ায় এবং সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।

 ভিটামিন ছাড়াও কমলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যেগুলো হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হারকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। কমলার আনটি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে এবং কোষকে সুরক্ষা করে।যখন কেউ জানতে চায় কমলা খাওয়ার উপকারিতা-অপকারিতা তখন আসলে তাদের আগ্রহ থাকে কমলার ভিটামিন গুলো শরীরের কোন দিকগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে তার বোঝার দিকে। কমলা একটি ভিটামিন সমৃদ্ধ সুপারফুড, তবে যে কোনো ভালো জিনিসের মতোই এটি পরিমিত মাত্রায় খাওয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ। এর অসাধারণ ভিটামিন ভাণ্ডারের কারণে কমলা স্বাস্থ্য সেবা নিয়ন্ত্রণ সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে উপকারী একটি ফল।

ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে কমলার ভূমিকা

ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের শরীরের এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এই ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে খাদ্যাভ্যাস যেসব উপাদান জরুরী, কমলা তার মধ্যে অন্যতম। ভিটামিন সি তে সমৃদ্ধ হওয়া এটি শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা বাড়ায় যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা তৈরি করে। নিয়মিত কমলা খেলে সর্দি, কাশি, জ্বর বা মৌসুমী রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং শরীর দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়।

কমলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরে বিদ্যমান ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেল দূর করে যা রোগ প্রতিরধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এই আন্টি অক্সিডেন্ট কষকে সুরক্ষা দেয় এবং শরীরের অভ্যন্তরীন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফল হিসেবে কমলার টক -মিষ্টির রস শরীরকে সতেজ রাখে যা ইমিউন সিস্টেমকে আরও সক্রিয় রাখে। এছাড়াও কমলায় থাকা ফলেট, ভিটামিন এ এবং পটাশিয়াম শরীরে সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।

বিশেষ করে শিশু বৃদ্ধ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের জন্য কমলা একটি কার্যকর ফল হিসেবে বিবেচিত। অনেকে ইমিউন সিস্টেম বাড়ানোর উপায় জানতে গিয়ে প্রথমে ভাবেন কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা ঠিক কি ? কারণ উপকারিতা  জানলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারেন। আবার কেউ কেউ জানতে চান পরিমিত মাত্রা কতটা হওয়া এবং অতিরিক্ত খেলে কোন সমস্যা হবে কিনা। তাই বলা যায় ইমিউন সিস্টেম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কমলার ভূমিকা বুঝার জন্য কমলা খাওয়ার উপকারিতা- অপকারিতা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

 ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর করতে কমলার উপকারিতা

ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর রাখতে কমলা একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান। কমলায় থাকা প্রচুর ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা ত্বককে টাইট, মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমলার পুষ্টি গুন অসাধারণভাবে সাহায্য করে। তাই যারা প্রাকৃতিক ভাবে গ্লোয়িং রাখতে চান তাদের কাছে কমলা একটি জনপ্রিয় ফল। কমলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের ক্ষতিকর  রাডিকেল দূর করে ফলে ত্বকে ব্রন, রাশ বা ইনফ্লামেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

এছারা কমলার রস ত্বকের ডার্ক স্পট, পিগ্মেনটেশন ও সা্নটান দূর করে  ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে সহায়তা করেন। নিয়মিত কমলা খেলে আবার ব্যবহার করলে ত্বকে তেল ভাব নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ত্বক হয় সতেজ। কমলায় থাকা প্রাকৃতিক এসিড মৃত কোষ পরিষ্কার করে ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে এমন কি শুষ্ক ত্বকে  কমলার রস প্রাকৃতিক নরমভাব এনে দেয়। এই উপকারিতার কারণে অনেক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট এ কমলার একটি বিশেষ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

 অনেকে ত্বকের যত্নে কমলা ব্যবহারের আগে জানতে চান কমলা খাওয়ার  উপকারিতা ও অপকারিতা। যেমন বেশি তেমনি সংবেদনশীল ত্বকে কখনো কখনো সরাসরি কমলার রস জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সঠিকভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ত্বক উজ্জ্বল স্বাস্থ্যকর স্বাভাবিক রাখতে কমলা একটি প্রাকৃতিক নিরাপদ এবং কার্যকর উপাদান।

আরো পড়ুনঃ

হজম শক্তি বাড়াতে কমলার উপকারিতা

 হজম শক্তি বাড়াতে কমলা একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক ফল। কমলায় থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রে জমে থাকা বর্জ্য বের হতে সহায়তা করে। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন তাদের জন্য কমলা একটি উপকারী খাদ্য, কারণ এর ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়া কমলার প্রাকৃতিক আসিডিক উপাদান খাবারকে দ্রুত ভেঙে দিতে সহায়তা করে, ফলে পেটের অস্বস্তিও গ্যাস কমে যায়।

কমলার রস হজম প্রক্রিয়াকে আরো সক্রিয় করে তোলে সাথে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, যা হজমের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কমলার উপাদান পেটের প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরধ করে,  বিশেষ করে ভারী খাবারের পর একটি কমলা খেলে পেটে হালকা অনুভুতি আসে এবং হজম দ্রুত হয়। তবে যে কোন ফলের মতো এখানে ভারসাম্য জরুরি অনেকেই জানতে চান কমলা খাওয়ার উপকারিতা - অপকারিতা কারণ অতিরিক্ত কমলা খেলে কখনো কখনো এসিডিটি বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আছে তাদের  ক্ষেত্রে। হজম শক্তি বাড়াতে কমলা একটি সহজ সুস্বাদু এবং উপকারী ফল যা দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখলে পেট থাকে সক্রিয়।

আরো পড়ুনঃ

ওজন কমাতে কমলার বিশেষভাবে কার্যকর

ওজন কমাতে কমলা এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে কারণ এতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম হলেও ফাইবার ও ভিটামিন সি রয়েছে প্রচুর। কমলার ফাইবার পেট ভরাট রাখে ফলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগে না। যারা ডায়েট করেন তারা সাধারণত এমন খাবার খুঁজেন যা কম ক্যালরিতে বেশি সন্তুষ্টি দেয়। কমলা এমন একটি ফল এটি  শরীরকে হাইড্রেট রাখে যা মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে।  কমলার প্রাকৃতিক চিনি ও শরীরে ক্ষতিকর নয় কারণ এটি ধীরে রক্তে শুষিত হয় এবং শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়, ফলে অনেকে স্নাক্স হিসেবে কমলা খেয়ে অতিরিক্ত খাবারের লোভ কমাতে পারেন।

কমলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের টক্সিন দূর করে যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করে তোলে। তবে শুধুমাত্র উপকারের দিকে নজর রাখতে চলবে না। এজন্য অনেকেই জানতে চান কমলা খাওয়ার উপকারিতা -অপকারিতা কারণ অতিরিক্ত কমলা খেলে  এসিডিটি বাড়তে পারে যা হজম সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে বেশি কমলা খাবার কিছু মানুষ জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।তাই পরিমিত মাত্রায় কমলা খাওয়া ওজন কমানোর যাত্রাকে আরও সহজ, স্বাস্থ্যকর করে তোলে।

ওজন কমাতে কমলার বিশেষভাবে কার্যকর

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কমলার একটি অত্যন্ত কার্যকর ফল, কারণ এতে ক্যালরি কম কিন্তু পুষ্টি বেশি।  কমলায় থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরাট রাখে ফলে অযথা খাবারের প্রতি লোভ কমে যায়। যারা ডায়েট করেন তাদের জন্য কমলা খুব সুবিধা জনক কারণ এটি একদিকে শরীরকে শক্তি দেয় অন্যদিকে ক্যালোরি যোগ হয় না। কমলার জলীয় অংশ শরীরকে হাইড্রেটের রাখে, যা   মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। মেটাবলিজম  যত ভাল কাজ করবে শরীর তত দ্রুত চর্বি পুড়াতে পারবে।

 কমলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের টক্সিন দূর করে যা ওজন কমানোর যাত্রাকে আরও সহজ, স্বাস্থ্যকর করে তোলে। এছাড়া কমলার প্রাকৃতিক মিষ্টতা মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমায় ফলে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ভারী খাবারের পর একটি কমলা খেলে হজম সহজ হয় এবং শরীর হালকা অনুভব করে। অতিরিক্ত সুবিধা দেয়।তাই অনেকেই জানতে চান কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কারণ অতিরিক্ত কমলা খেলে এসিডিটির বা গ্যাস্ট্রিক হতে পারে, বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে। তাই কমলা অবশ্যই উপকারী কিন্তু পরিমিত মাত্রায় খাওয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ। নিয়মিত পরিমিত কমলা খাওয়া ওজন কমাতে প্রাকৃতিক সুস্বাদু, কার্যকর হিসেবে কাজ করে।

আরো পড়ুনঃ

কমলার অপকারিতা

যদিও কমলা একটি অত্যন্ত উপকারী ফল তবু পরিমাণ এ অতিরিক্ত খেলে কিছু অপকারিতা দেখা দিতে পারে। কমলায় থাকা প্রাকৃতিক এসিড অনেকের জন্য এসিডিটির বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল বা আগের থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তাদের জন্য বেশি কমলা খাওয়া অসস্তি, পেট জ্বালা এবং বুক জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত কমলার রস পান করলে  দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কারণ এতে থাকা সাইট্রিক এসিড দাঁতকে ধীরে ধীরে নরম করে এবং ক্ষয় বারিয়ে দেয়।

তাই কমলার রস খাওয়ার পরে মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি পরিমাণে কমলা খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদিও কমলার  গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম তবু অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। আবার খালি পেটে কমলা খাওয়া অনেকের জন্য হজমে সমস্যা তৈরি করে, ফলে পেট মোচড়ানো বা অস্বস্তি অনুভব হতে পারে। অতিরিক্ত কমলা খেলে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কারন এতে ফাইবার বেশি থাকে শিশুদের ক্ষেত্রে এ সমস্যারও বেশি দেখা দিতে পারে। কমলা উপকারী হলেও পরিমিত মাত্রায় খাওয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।

আরো পড়ুনঃ

দিনের কোন সময় কমলা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী

কমলা একটি পুষ্টিকর ও সতেজ ফল ,তবে  দিনের যেকোনো সময় খাওয়ার তুলনায় কিছু নির্দিষ্ট সময়ে এটি শরীরে বেশি উপকারী ভাবে কাজ করে। সাধারণত সকলে রাস্তার উপর কমলা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। কারণ ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে হাইড্রেট রাখতে শক্তি জোগাতে ভিটামিন সি সরবরাহ করতে কমলা দারুনভাবে সাহায্য করে। নাস্তার পর কমলা খেলে পেটে কোন ধরনের জ্বালাবো অস্বস্তি হয় না এবং হজমও ভালো হয়।

 দুপুরে খাবারের  ৩০ মিনিট পর কমলা খাওয়া অনেক উপকারী।এ সময় শরীর খাবার হজম করছে এবং কমলার ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে আরো সক্রিয় করে, ফলে পেট হালকা থাকে এবং গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা কমে যায়। তবে খালি পেটে কমলা খাবার অনেকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এর সাইট্রিক এসিড পেটে অসস্তি বা এসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে।  রাতে বেশি কমলা খাওয়া ঘুমের সময় আসিডিটি বা  বুক জ্বালা তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকাল দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে কমলা খাওয়া। এতে শরীর পায় প্রয়োজনে ভিটামিন শক্তি এবংশরির  থাকে সতেজ। পরিমিতভাবে সঠিক সময়ে কমলা খেলে এর উপকারিতা সর্বোচ্চ পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস বা গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য কমলা খাওয়ার নিয়ম

ডায়াবেটিক বা গ্যাস্ট্রিক রোগীদের জন্য কমলা খাওয়া উপকারী হলেও কিছু নিয়ম মেনে চলা খুব জরুরী। কমলায় প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম তাই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে কমলা খেতে পারেন। তবে রস করে নয় পুরো কমলা খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত। কমলার রস অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে কারণ রসে ফাইবার কমে যায় এবং রক্তের গ্লুকোজ দ্রুত বাড়তে পারে।

গ্যাস্ট্রিক রোগীদের কমলা খেতে আরো সতর্ক থাকতে হয়। কমলা এসিডিক হওয়ায় খালি পেটে এটি খাওয়া একেবারে উচিত নয়, কারণ এতে এসিডিটি বুক জ্বালাও পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে।  গ্যাস্ট্রিক  রোগীরা খাবারের ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পরে কমলা খেলে  ভালোভাবে হজম হয় এবং পেটে অস্বস্তি তৈরি হয় না। যদি কারো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেশি থাকে তাহলে অল্প পরিমাণে খেয়ে সহনশীলতা পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ডায়াবেটিস ও গ্যাস্ট্রিক দুই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমিত খাওয়া এবং সঠিক সময় নির্বাচন। সঠিক নিয়ম মেনে কমলা খাওয়া উপকারী পাওয়া যায়, আর ভুল সময় অতিরিক্ত খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

উপসংহার(কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা)

কমলার সব পুষ্টিগণ বিবেচনা করে বলা যায় এটি একটি অসাধারণ ফল যা শরীরকে ভিটামিন সি অ্যান্ট্রি অক্সিডেন্ট ফাইবার ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সরবরাহ করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে ত্বক উজ্জ্বল রাখা, হজম শক্তি বৃদ্ধি, ওজন কমাতে সহায়তা সব ক্ষেত্রে কমলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক ফলে সব সুবিধা পাওয়া যায় বলে এটি সারাবিশ্বে সমানভাবে জনপ্রিয়।

কমলা খাওয়ার আগে কমলার উপকারীতা ও অপকারিতা দুটোই জানা জরুরী কারণ পরিমিত খেলে যত উপকার পাওয়া যায় অতিরিক্ত বা ভুল সময়ে খেলে ঠিক ততটাই অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। যেমন খালি পেটে কমলা খেলে গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালা বা এসিডিটি বাড়াতে পারে। আবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অতিরিক্ত কমলা রক্তে শর্করা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দাঁতের ক্ষয় ও কমলার এসিডের একটি সম্ভাবনা সম্ভাব্য বিরূপ  প্রভাব ফেলে।প্রকৃত উপকার পেতে গেলে কমলা খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে জানা জরুরি। নিয়ম মেনে খেলে সচেতনভাবে কমলা খেলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মূল্যবান স্বাস্থ্যকর সংযোজন।


 









এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সুমি ডিজিটালসেরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Sumi Akter
Mst. Sumi Akter
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সুমি ডিজিটালস এর একজন অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।