কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
কখনো কি ভেবেছেন, প্রতিদিন যে কলা খাই, সেই সাধারণ ফলটিই আপনার শরীরের জন্য
হতে পারে এক শক্তিশালী সুপার ফুড? আবার ঠিকমতো না খেলে একই কলা আপনাকে দিতে পারে
কিছু অস্বস্তিকর সমস্যা! ঠিক এই কারণে কলার উপকারিতা এবং অপকারিতা
দুটোই জানা জরুরী।
এই আর্টিকেলে আপনি জানবেন কোন সময় কলা আপনার শরীরে এনার্জি বাড়ায়,
হজমে সাহায্য করে, এমনকি মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। আর কখন এটি এড়িয়ে
চলায় ভালো এমন কিছু তথ্য রয়েছে যেগুলো আপনি জানলে আজ নতুন ভাবে কলা কে আপনার
ডায়েট যুক্ত করতে চাইবেন অথবা খাওয়ার নিয়ম বদলে ফেলবেন।
পেজ সূচিপত্রঃঃ(কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা)
- কলা খাওয়ার উপকারিতা
- হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কলার উপকারিতা
- ওজন বাড়াতে কলার উপকারিতা
- ত্বক ও চুলের যত্নে কলার ব্যবহার
- হাড় মজবুত করতে কলার উপকারিতা
- গর্ভবতী নারীর জন্য কলার উপকারিতা
- পেটের সমস্যা দূর করতে কাঁচা কলার উপকারিতা
- কলা খাওয়ার অপকারিতা
- দিন বা রাতে কখন কলা খাওয়া বেশি উপকার
- উপসংহার(কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা )
কলা খাওয়ার উপকারিতা
কলা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারন ফল হলেও এর উপকারিতা অনেক। কলা
পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই ফলটি শরীরকে দ্রুত শক্তি যোগায়। হজম শক্তিতে অনেক বেশি
সাহায্য করে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই
কম দাম বলে কলা খান, কিন্তু এর প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে ভিটামিন, খনিজ,
প্রাকৃতিক ফাইবারের মধ্য। তাই কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আগে জানা
অত্যন্ত জরুরী।
আমাদের কলা খাওয়ার আগে জানতে হবে, কলা আমাদের শরীরের জন্য কতটুকু উপকারী। কলা
তৎক্ষণিক এনার্জির এক চমৎকার উৎস ও খেলাধুলা বা দীর্ঘক্ষন কাজের পর একটি কলা
শরীরকে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে দেয়। এতে থাকা গ্লুকোজ খুব দ্রুত রক্তে মিশে শক্তি
সরবরাহ করে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় কলা হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে এবং রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে।উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য প্রতিদিন একটি করে কলা খাওয়া
উপকারী হতে পারে।
হজম শক্তি বাড়াতেও কলা আমাদের অনেক সাহায্য করে। এতে থাকা ডাইটারি ফাইবার
কোষ্ঠকাঠিন্য কমিয়ে অন্ত্র পরিষ্কার করে। যাদের হজম সমস্যা আছে তাদের জন্য কলা
একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসার মত কাজ করে।এছাড়া কলার ভিটামিন বি৬ মানসিক চাপ কমাতে
সাহায্য করে, মুড ভালো করে এবং ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। দিনে একটি কলা খেলে
সারাদিন শরীরকে সতেজ রাখে।ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বাড়াতে কলা সাহায্য করে। কলা
ত্বক চুলের যত্নেও অনেক উপকারী, এতে ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা
বাড়ায়।
শুস্কতা কমায় এবং চুলকে নরম এবং মজবুত করে। ওজন কমাতে চাইলে কলা হতে পারে
এটি চমৎকার উৎসাহ, কারণ এটি পেট ভরিয়ে রাখে এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার
প্রবণতা কমায়।ডায়েটারি ফাইবার দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা দমন করে রাখে ও শরীরের
বিপাকক্রিয়া উন্নত করে। তবে আমাদের মনে রাখা উচিত প্রতিদিন খাবারের যেমন
উপকারিতা আছে তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে।কলা খাওয়ার ভালো ফল পেতে চাইলে
নিয়মিত এক থেকে দুইটা কলা খাওয়া উচিত।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে
পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই কলা খাওয়ার আগে কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারী দুটি
সম্পর্কে জানা আমাদের সকলের দায়িত্ব। পরিমিত মাত্রায় খেলে কলা একটি সুষম
স্বাস্থ্যকর খাবার, যা শরীরকে শক্তিশালী সক্রিয় ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কলার উপকারিতা
হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কলা একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং প্রাকৃতিক উপাদান। অনেকে হয়তো
জানেন না প্রতিদিন একটি বা দুটি কলা খাওয়ার মাধ্যমে হজম শক্তি অনেকটা বৃদ্ধি
পেতে পারে। কলায় রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার, বিশেষ করে পেকটিন যা অন্ত্রকে পরিষ্কার
রাখতে সাহায্য করে এবং খাবারকে সহজে ভাঙতে সাহায্য করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য,পেট
ফাঁপার সমস্যা থাকে তাদের জন্য কলা হতে পারে একটি আদর্শ খাদ্য। এই কারণে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন হজমের জন্য কলা হলো সবচেয়ে সহজ নিরাপদ এবং দ্রুত
কার্যকর ফল।
কলা পাকস্থলীতে এক ধরনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা তৈরি করে।এতে থাকা ফাইবার অন্ত্রের
গতিশীলতা বাড়ায়, ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবংপেটের অস্বস্তি কমায়। অনেকের
খাবার হজম হতে সময় লাগে ফলে ক্লান্তি বা গ্যাস সৃষ্টি হয়। নিয়মিত কলা খেলে এসব
সমস্যা বিশেষ করে সকালের নাস্তায় একটি কলা খেলে সারা দিনের হজম প্রক্রিয়া আরো
মসৃণ হয়।এছাড়া কলায় থাকা প্রবায়টিক, যা উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি
বাড়ায়,অন্তরের পরিবেশ কে সুস্থ রাখে।
এটি হজম শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই, যা দীর্ঘদিন
ধরে সমাধান হতে পারে। তবে হজমের জন্য কলা যতটা উপকারী ততটাই জরুরী এর সীমাবদ্ধতা
জানা। বিশেষ করে যাদের অতিরিক্ত গ্যাস বা আসিডিটির সমস্যা আছে তারা বেশি
কলা খেলে অসুস্থ হতে পারে। তাই সবসময় মনে রাখতে হবে কলা খাওয়ার উপকারিতা ও
অপকারিতা দুই দিকে বিবেচনা রাখতে হবে। পরিমিত মাত্রায় খেলে কলা হজম শক্তি বাড়াতে
সত্যি অসাধারণ ভুমিকা রাখে,যা সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুনঃ
ওজন বাড়াতে কলার উপকারিতা
যাদের ওজন কম এবং স্বাভাবিকভাবে স্বাস্থ্যকর ভাবে ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য কলা
একটি অত্যন্ত কার্যকর ফল। কলায় রয়েছে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট এবং স্বাস্থ্যকর
শর্করা যা শরীরে দ্রুত শক্তি যোগানোর পাশাপাশি ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন
দুই থেকে তিনটি কলা খেলে দৈনিক ক্যালোরির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। কেননা কলা অনেক
মিষ্টি ওজন বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে আরো দ্রুত সাহায্য করে। কলা হজমে সহজ হওয়ায়
শরীর এটি দ্রুত শোষণ করতে পারে এবং কালরি জমা করতে সাহায্য করে।
অনেক সময় ওজন বাড়াতে আগ্রহীরা ভারী খাবার খেতে পারে না আবার সেগুলো হজম হতে
চায়না, ফলে পেটে গ্যাস জমা হয়, শরির ক্লান্তিও অস্বস্তি ভাব শুরু হয়।কলা হজম করতে
অনেক সাহায্য করে এটি দ্রুত শোষণ করতে পারে এবং পেশিতে কালরি জমাতে সাহায্য
করে।আবার কলা পেট ভারি রাখে যার কারনে অপ্রয়োজনীয় খাবার খেতে হয়না।এছাড়া মিল্কশেক
বা পিনাট ব্যাটারের সাথে কলা খেলে আরও ক্যালোরি বারে, যা দ্রুত ওজন বাড়াতে সহয়তা
করে।
কলা পেশি শক্তি বাড়াতেও কাজ করে।কারণ এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরে ভারসাম্য
রক্ষা করে। নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে কলা খেলে শরীর আরো স্বাস্থ্যকর ভাবে ওজন
বৃদ্ধি পায়। তবে মনে রাখতে হবে ওজন বাড়াতে কলা যতটা উপকারী ঠিক ততটা
গুরুত্বপূর্ণ। কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানা জরুরী যাতে
পরিমাণ ঠিক রেখে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ানো যায়।
আরো পড়ুনঃ
ত্বক ও চুলের যত্নে কলার ব্যবহার
ত্বক ও চুলের যত্নে কলা একটি অসাধারণ উপাদান। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই,
পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের গভীর আদ্রতা এবং চুলকে করে আরো নরম ও
উজ্জ্বল। শুষ্ক ত্বক ও চুলের সমস্যায় কলা ব্যবহার করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়,
তাই সৌন্দর্য চর্চার ফলের মধ্যে একটি অন্যতম উপাদান হল কলা।তবে যে কোন
ব্যবহার শুরু করার আগে কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানা সবসময়
গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকের জন্য ঘরে তৈরি করা কলার মাস্ক দ্রুত কাজ করে। একটি পাকা কলা মেখে
ত্বকে লাগালে ত্বক মসৃণ হয়, ডাক স্পট কমে এবং ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। কলার
প্রাকৃতিক মস্চারাইজিং ক্ষমতা ত্বককে দীর্ঘক্ষণ নরম রাখে। যাদের একনে সমস্যা
রয়েছে তারা কলায় থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থেকে উপকার পেতে পারেন। চুলের
ক্ষেত্রে কলা চমৎকার কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। কলার সঙ্গে দই বা অলিভ অয়েল
চুলের স্কাল্পে মাখালে ভাঙ্গা চুলের সমস্যা দূর হয়। নিয়মিত ব্যবহারে চুল হয়ে
ওঠে ঘন, উজ্জ্বল, নরম। তবে যে কোন স্কিন কেয়ার বা হেয়ার কেয়ার যেমন
সর্তকতা জরুরী ঠিক তেমনি কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বুঝে ব্যবহার করলেই
সর্বোচ্চ ফল পাওয়া যায়।
আরো পড়ুনঃ
হাড় মজবুত করতে কলার উপকারিতা
হারের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং হারকে শক্তিশালী করতে কলা একটি কার্যকর ফল। এতে
থাকা প্রাকৃতিক পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হারের খনিজ ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
ফলে হাড়ের ভঙ্গুরতা কমে এবং হার মজবুত হয়। নিয়মিত কলা খেলে হারে কালসিয়াম শোষণ
ও বৃদ্ধি পায়, যা বিশেষ করে বৃদ্ধ বা হারের ক্ষয়জনিত সমস্যায় ভুগছেন
তাদের জন্য খুব উপকারী।
কলা হজমের সহজ হওয়ায় শরীর এটি দ্রুত শোষণ করতে পারে এবং হাড়ের টিস্যুতে
প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া হারে স্বাস্থ্যের জন্য
প্রাকৃতিক সহায়ক। এছাড়া কলায় থাকা ভিটামিন সি হাড়ের কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং
আঘাত বা চোটের পর হার দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে। যদিও কলা অনেক উপকারী তবুও এর
সঠিক ব্যবহার জানা জরুরী। অতিরিক্ত কলা খেলেই শুধু উপকার পাওয়া যায়না তাই কলা
খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।
আরো পড়ুনঃ
গর্ভবতী নারীর জন্য কলার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় পুষ্টি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সময় কলা খাওয়া
অত্যন্ত উপকারী হতে পারে কলায় রয়েছে ভিটামিন বি ৬,পটাশিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম ও
প্রাকৃতিক শর্করা। যা গর্ভবতী নারীর শরীরকে শক্তি যোগায়এবং ক্লান্তি দূর
করতে সাহায্য করে।বিশেষ করে সকালবেলা খালি পেটে কলা খেলে এনার্জি বারে এবং পেট
শান্ত থাকে। কলায় থাকা ফাইবার হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
সহায়তা করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য গর্ভাবস্থায়ায় একটি সাধারন সমস্যা এবংকলা এটি প্রতিরোধ করতে
সাহায্য করে। এছাড়া পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা গর্ভবতী
নারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত কলা খাওয়া মা ও
শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে কলা খাওয়ার সময় পরিমাণ মেনে খাওয়া
জরুরী। গর্ব অবস্থায় কলার ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার তাই কলা
খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা দুটোই জানা গুরুত্বপূর্ণ। যাতে মায়ের শরীর
এবং শিশুর বিকাশ সুরক্ষিত থাকে। নিয়মিত ওপরিমিত কলা খাওয়া গর্ভবতী নারির
জন্য শক্তি পুষ্টি ও সুস্থতা নিশ্চিত করার সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায়।
আরো পড়ুনঃ
পেটের সমস্যা দূর করতে কাঁচা কলার উপকারিতা
পেটের সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য,আসিডিটি বা গ্যাস অনেকেরই দৈনন্দিন
জীবনকে অস্বস্তিকর করে তোলে। এই ধরনের সমস্যার জন্য কাঁচা কলা একটি
প্রাকৃতিক ও নিরাপদ সমাধান। কাঁচা কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা হজম
শক্তি বাড়ায়,অন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। প্রতিদিন সকালে বা
খাবারের আগে একটি কাঁচা কলা খেলে পেটের অস্বস্তি অনেক অংশ কমে যায়।
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ কাঁচা কলা হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ করে এবং গ্যাস বা ফাঁপা সমস্যা
হ্রাস করে। এছাড়াও এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক হয়, ফলে
খাবার দ্রুত শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তবে সবসময় মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত খাওয়া
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা বা গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে। তাই কলা খাওয়ার
নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরী। কাঁচা কলা নিয়মিত এবং পরিমিতভাবে খেলে পেটের
সমস্যার প্রতিকার সম্ভব এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। একটি সহজ প্রাকৃতিক এবং
কার্যকর উপায় যা আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে
সাহায্য করে।
কলা খাওয়ার অপকারিতা
যদিও কলা পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এবং শরীরের জন্য উপকারী কিছু ক্ষেত্রে এটি সমস্যার কারণ
হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো রক্তের শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি। ডায়াবেটিস
রোগীদের জন্য অতিরিক্ত কলা রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে ব্যঘাত ঘটাতে পারে। এছাড়া
সংবেদনশীল পেট বা গ্যাসজড়িত সমস্যা থাকলে কলা খেলে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি বাড়তে
পারে। কলা অনেক সময় মাইগ্রেন ও মাথা ব্যথার ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশেষ করে যাদের শরীরের টাইরামিন সংবেদন বেশি তারা অতিরিক্ত কলা খেলে মাথা
ব্যথার সমস্যায় ভুগতে পারেন। অতিরিক্ত ক্যালরির কারণে নিয়মিত ও ভারী কলা খাওয়া
ওজন বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে,যা সবসময় উপকারী নয়। এছাড়া কিডনির সমস্যায়
আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত পটাশিয়াম ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই কলার
পরিমিত ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব ক্ষেত্রে কলা খাওয়ার উপকারিতা
ও অপকারীতা দুটোই জানা জরুরী যাতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয়।
দিন বা রাতে কখন কলা খাওয়া বেশি উপকার
কলা খাওয়ার স্বাস্থ্যকর হলেও কখন এটি খাওয়া হচ্ছে বা উপকারিতা
বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। সকালের সময় কলা খেলে শরীরকে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করা
যায়।এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা এবং পটাশিয়াম সারাদিন শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য
করে। সকালের নাস্তায় একটি কলা খেলে পুরো দিন স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ সহজ হয়।
দুপুর বা বিকেলে কলা খাওয়া হলে শরীরের এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি পায় এবং
কাজের সময় ক্লান্তি কমে। তবে রাতের সময় খুব বেশি কলা খেলে হজম কিছুটা চাপ পড়তে
পারে। রাতে খাওয়া কলা শরীরকে শান্ত করে কিন্তু অতিরিক্ত খেলে কিছু মানুষের
ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
তাই রাতে কলা খাওয়ার সময় পরিমাণ মেনে চলা উচিত। সুস্থভাবে কলা খাওয়ার
নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সকালে বা দুপুরের সময় কলা খেলে
শরীরে দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি পায়, হজম প্রক্রিয়া মসৃণ থাকে। তবুও কলার ব্যবহার
সম্পর্কে সব সময় কলা খাওয়ার নিয়ম জানা উচিত, যাতে সঠিক সময়ে এবং পরিমাণে খেয়ে
সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়।
উপসংহার(কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা )
কলা একটি সহজলভ্য এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ ফল যার শরীরের জন্য অসংখ্য উপকার নিয়ে আসে
এটি শরীরের দ্রুত শক্তি যোগায়, হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ করে, হৃদপিন্ডের স্বাস্থ্য
রক্ষা করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া কলা হাড়, চুল ও ত্বকের
স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত পরিমিতভাবে কলা খাওয়ায় ওজন
নিয়ন্ত্রণ, পেটের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং গর্ভবতী নারীর জন্য প্রয়োজন পুষ্টি
নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
তবে প্রতিটি খাবারের মতো কলারও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অতিরিক্ত কলা খেলে রক্তে
শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি ,গ্যাস বা হজম সমস্যা, মাথাব্যথা বা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি
থাকতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত পটাশিয়াম ও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই কলা খাওয়ার সময় ও পরিমান বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কলার উপকারিতা এবং অপকারিতা দুটো বিষয়ে জানা উচিত। এটি আমাদের খাদ্য
তালিকায় একটি স্বাস্থ্যকর ও কার্যকর ফল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। পরিমাণ মতো
কলা খেলে শরীরকে শক্তিশালী,সতেজ ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আর অসাবধানতা বসত কলা
খেলে অস্বস্তিকর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কলা খাওয়ার সময় আমাদের
সচেতন থাকা অনেক বেশি জরুরী।

সুমি ডিজিটালসেরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url