গর্ভবতী মায়েদের ফল খাবার তালিকা
গর্ভাবস্থায় প্রতিটি দিনই যেন এক নতুন অনুভূতি, আর এ সময় মায়ের প্রতিটি খাবারের প্রভাব ফেলে শিশুর সুস্থ বিকাশে। তাই এই সময়ে সঠিক ফল নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।
রঙ ও বিভিন্ন ধরনের ফল শুধু মায়ের শক্তি বাড়ায় না, শিশুর মস্তিষ্ক আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্ভের সন্তানকে স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে চাইলে ফল হতে হবে আপনার সবচেয়ে সহজ নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক সঙ্গী।
পেজ সূচিপত্র: (গর্ভবতী মায়েদের ফল খাবার তালিকা )
- গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার গুরুত্ব
- মায়ের ও শিশুর জন্য ফলের পুষ্টিগুণ
- গর্ভবতী মায়েদের জন্য সেরা ফলের তালিকা
- ফল খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম
- প্রতিদিন কতটুকু ফল খাওয়া উচিত
- যে ফলগুলো খাওয়া নিরাপদ নয় বা কম খাওয়া উচিত
- মর্নিং সিকনেস এর সাহায্য করে এমন ফল
- রক্তস্বল্পতা দূর করে এমন ফলের পরামর্শ
- পাচনতন্ত্র ভালো রাখতে সহায়ক ও ফল
- ফল খাওয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধি ও সর্তকতা
গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়ার গুরুত্ব
গর্ভাবস্থায় হল এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়, যেখানে মায়ের প্রতিটি খাদ্য বা
সরাসরি প্রভাব ফেলে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য। এই সময় পুষ্টিকর
খাবারের মধ্যে ফল সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পুষ্টির উৎস। তাই অনেক
বিশেষজ্ঞ প্রথম থেকেই বলে মায়ের দৈনিক খাদ্য তালিকায় ফল থাকা উচিত
বাধ্যতামূলকভাবে। ফলের ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার ও প্রাকৃতিক
শক্তির গর্ভবতী মা এবং শিশুর জন্য সমানভাবে উপকারী। এ কারণে গর্ভবতী মায়েদের ফল
খাবার তালিকা প্রতিটি মা ও পরিবারকে গুরুত্বসহকারে অনুসরণ করা উচিত।
ফলের ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যা গর্ভাবস্থায় খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময় মায়ের বিভিন্ন সংক্রমনে বেশি আক্রান্ত হতে পারেন।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমনঃ কমলা, মাল্টা, স্ট্রবেরি ইত্যাদি শরীরে আয়রন শোষণ ও
বাড়িয়ে দেয, ফলে রক্তস্বল্পতা ঝুঁকি কমে। একইভাবে ফলের প্রাকৃতিক ফলেট শিশুর
মস্তিস্ক ও স্পাইনাল কর্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর পটাশিয়ামযুক্ত ফল
যেমনঃ কলা শরীরে পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে হাত-পা ফুলে যাওয়া বা ক্রাম্প
কমাতে সাহায্য করে।
ফল খাওয়া মায়ের হজম শক্তিকেও শক্তিশালী করে।
গর্ব অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য খুব সাধারণ একটি সমস্যা। আর ফাইবার সমৃদ্ধ ফল
যেমনঃ পেয়ারা, আপেল, নাশপাতি এসব সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। প্রতিদিন বিভিন্ন
রঙের ফল খেলে শরীরে আনটি অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়ে, যা শিশুর টিস্যু গঠনকে
সহায়তা করে এবং শরীরের ক্ষতিকর উপাদান দূর করে।শুধু তাই নয় ফল মায়ের মন মেজাজ
ঠিক রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিক চিনি শক্তি জগায়, ক্লান্তি কমায়
এবং হরমোন ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করে। অনেক ফল আবার পানির অভাব পূরণ
করে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করে, যা পুরো গর্ব অবস্থায় খুবই জরুরী।
সবশেষে বলা যায় সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ফল রাখা মানেই মায়ের এবং শিশুর
জন্য আরও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। তাই প্রতিটি পরিবারের উচিত একজন মা যাতে
স্বাস্থ্যসম্মত, তাজা ওপুষ্টিকর ফল সহজে পায় তা নিশ্চিত করা। সঠিকভাবে
সাধারণ একটি গর্ভবতী মায়েদের ফল খাওয়ার তালিকা পুরো গর্ভাবস্থাকে কে আর
অসুস্থ, স্বস্তিদায়কও ঝুঁকিমুক্ত করে তুলতে পারে।
মায়ের ও শিশুর জন্য ফলের পুষ্টিগুণ
গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রতিটি খাবারই শিশু শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ফল এমন একটি খাবার যা প্রাকিতিকভাবে ভিটামিন, খনিজ,
পানি, ফাইবার এবং আন্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। সেজন্য গর্ভকালীন সময় প্রতিদিন ফল
খাওয়া শুধু মায়েদের জন্য নয়, গর্ভস্থ শিশুর জন্য অত্যন্ত উপকারি। সঠিকভাবে
সাজানো গর্ভবতী মায়েদের ফল খাওয়ার তালিকা অনুসরণ করা একটি বুদ্ধিমানের কাজ। ফলে
বিদ্যমান ভিটামিন সি মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
যা মাকে নানা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে ভিটামিন সি শিশুর হার,ত্বক
ও টিস্যু সঠিক গঠনের সহায়ক। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফলেট। একটি
শিশুর মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র গঠনে অত্যন্ত দরকার এবং জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে
ভূমিকা রাখে। তাই গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই ফলেট সমৃদ্ধ ফল খাওয়া
আবশ্যক। এ ছাড়া ফলের প্রাকৃতিক পটাশিয়াম মায়ের শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে
সহায়তা করে। গর্ভ অবস্থায় হাত, পা ফুলে যাওয়া মাংসপেশিতে স্ক্যাম্প পাওয়া
সাধারণ সমস্যা। পটাশিয়াম এসব সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
অপরদিকে ফাইবার সমৃদ্ধ ফল যেমনঃ আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি ইত্যাদি
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে। যেহেতু অনেক মা
গর্ভাবস্থায় হজম সমস্যায় ভোগেন তাই ফল তাদের জন্য প্রাকৃতিক উপকার নিয়ে আসে।
গর্ভস্থ শিশুর বিকাশের ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
ফল শিশুর কোষ কে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং টিস্যু অঙ্গ-প্রতঙ্গ গঠনে ইতিবাচক
প্রভাব ফেলে। আবার কিছু ফল যেমনঃ আম, কলা ও বেরি জাতীয় ফল প্রাকৃতিক শক্তি
সরবরাহ করে, যা মায়ের ক্লান্তি দূর করে এবং শিশুকে পর্যাপ্ত পুষ্টিতে সহায়তা
করে।
ফলের প্রাকৃতিক পানি শরীরে হাইড্রেশন বজায় রাখে যা গর্ব অবস্থায় জরুরি।
পর্যাপ্ত পানি ও তরল শিশুর আমনিউটিক ফলুইট ঠিক রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন করতে
সহায়তা করে। একটি সঠিক গর্ভবতী মায়েদের ফল খাওয়ার তালিকা অনুসরণ করলে মা
ও শিশু উভয়ের সুস্থতা নিশ্চিত করা সহজ হয়ে যায়। ফল হলো এমন একটি খাবার যা
স্বাদে যেমন উপকারিতা তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এটি গর্ভাবস্থায় নিরাপদ,
শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
আরো পড়ুনঃ
গর্ভবতী মায়েদের জন্য সেরা ফলের তালিকা
গর্ভাবস্থায় সঠিক ফল নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটি ফলে
রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভিটামিন, খনিজ, পুষ্টি উপাদান যা মা ওগর্ভস্থ শিশুর সুস্থ
বিকাশে সরাসরি ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিটি পরিবারের উচিত একটি সুষম গর্ভবতী
মায়েদের ফল খাবার তালিকা তৈরি করে মায়ের দৈনন্দিন খাদ্যাভাসে তা
সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা। নানা গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন
ধরনের ফল খাওয়া মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, হজম শক্তি ভালো রাখে এবং
শিশুর অঙ্গ পতঙ্গ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য সেরা ফল গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কমলা। যা ভিটামিন সি ও
পানিসমৃদ্ধ। এটি সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করার পাশাপাশি আয়রন শোষণ বারিয়ে
রক্তস্বল্পতা কমায়। আপেল হলো আরেকটি চমৎকার ফল, যা ফাইবারে ভরপুর এবং হজম ভালো
রাখতে বিশেষভাবে সহায়ক। কলা পটাশিয়াম এর সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের পানির
ভারসাম্যতা রক্ষা করে স্কাম্প কমায়। ফোলেট বা ফলিক এসিড শিশুর মস্তিষ্ক
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
তাই পেঁপে, আম,স্ট্রবেরি এসব ফল ফলেট সরবরাহ করে এবং শিশু সুস্থ বিকাশে
সহায়তা করে। ডালিম আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে বিশেষ কার্যকর।
আর আঙ্গুল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন কে সরবরাহ করে জা মা ও শিশু রক্ত
জমাট বাধার ক্ষমতা উন্নত করে। এছাড়াও জল সমৃদ্ধ ফল যেমনঃ তরমুজ, জাম্বুরা শরীরকে
হাইড্রেট রাখে এবং ডিহাইড্রেশন রোধ করে। প্রতিদিন এসব ফল পর্যায়ক্রমে খেলে
মায়ের শরীর শক্তিশালী থাকেন ক্লান্তি কমে এবং শিশুর বিকাশ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন
হয়। একটি সঠিক পরিকল্পিত গর্ভবতী মায়েদের ফল খাবার তালিকা মায়ের পুরো
গর্ভাবস্থাকে আরো স্বাস্থ্যকর নিরাপদ আরামদায় করে তুলতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
ফল খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম
গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়া মায়ের ও শিশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও সঠিক সময়,
নিয়ম মেনে খাওয়া আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল সময় বা ভুল উপায়ে ফল খেলে
হজমে সমস্যা গ্যাস বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই একটি সঠিক গর্ভবতী
মায়েদের ফল খাবার তালিকাঅনুসরণ করার পাশাপাশি কখন কিভাবে ফল খাওয়া উচিত তা জানা
জরুরী।
গর্ভবতী মায়েদের জন্য দিনে সেরা সময় হল সকালে খালি পেটে বা সকালের
নাস্তার আগে ফল খাওয়া। এতে ফলে ভিটামিন ও মিনারেল দ্রুত শোষিত হয় এবং সারাদিনের
জন্য শক্তি যোগায়। তবে যাদের গ্যাস বা এসিডিটির সমস্যা আছে, তারা খালি পেটে
খুব টক বা সাইট্রাস ফল না খাওয়াই ভালো। দুপুরে খাবারের এক থেকে দেড় ঘন্টা
পর ফল খাওয়া একটি ভাল অভ্যাস, কারণ এতে হজম ভালো হয়। রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ফল
খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
বিশেষ করে যাদের গ্যাস বা বদহজম হয়, কারণ রাতে হজম থেকে তুলনামূলক ধিরভাবে
হয়ে থাকে। আবার খাবারের সাথে ফল কখনো খাওয়া উচিত নয়, এতে খাবার হজমে বাধার
সৃষ্টি হতে পারে।
ফল খাওয়ার সঠিক নিয়মের মধ্যে রয়েছে ফল অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে, খোসা পরিষ্কার
করে খাওয়া। রাসায়নিক বা মম ব্যাবহার করা ফল থাকলে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া
ভালো। প্রতিদিন একই ধরনের ফল না খেয়ে বিভিন্ন রংও ধরনের ফল খাওয়া উচিত।
যাতে শরীরে ভিটামিন খনিজ ও আন্টি অক্সিডেন্টের ভারসাম্য বজায় থাকে। জুসের
বদলে ফল পুরোটা খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ জুসে ফাইবার কম থাকে এবং শর্করা বেশি
থাকে। যারা ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে ভোগেন, তারা খুব মিষ্টি ফল সীমিত
পরিমাণে খাবেন। দিনে দুই থেকে তিন ভাগে ভাগ করে ফল খাওয়া সবচেয়ে
স্বাস্থ্যকর।সঠিক সময় ও নিয়ম মেনে ফল খেলে মা শক্তিশালী থাকে, হজম ভালো থাকে
এবং গর্ভস্থ শিশুর বিকাশ ও আরো সুস্থভাবে সম্পন্ন হয়।
আরো পড়ুনঃ
প্রতিদিন কতটুকু ফল খাওয়া উচিত
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু ফল খাওয়া উচিত তা জানা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য
নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলের ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মায়ের শক্তি বাড়ায়,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে এবং
শিশুর সুস্থ বিকাশের সহায়তা করে। ফলে অতিরিক্ত ফল খাওয়ায় কিছু সমস্যার কারণ
হতে পারে। এজন্য একটি সুষম গর্ভবতী মায়েদের ফল খাবার তালিকা অনুসরণ করা
বুদ্ধিমানের কাজ। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য দৈনিক ফলের পরিমাণ সাধারণত দুই থেকে
চার প্রোটিয়ন।
একটি প্রোটিয়ন মানে হল একটি মাঝারি আকারের ফল যেমনঃ আপেল, কমলা বা কলা অথবা
এক কাপ কাটা ফল যেমনঃ আম, পেপে বা স্ট্রবেরী দিনে অত্যন্ত দুই ধরনের ফল খাওয়া
ভালো, যাতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ শরীরে পৌঁছায়।ফলের রঙ ও প্রকারের বৈচিত্র
রাখা গুরুত্বপূর্ণ।লাল ও কমলা রঙের ফল যেমনঃ আঙ্গুল, কমলা, পেপে ভিটামিন সি এবং
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর সমৃদ্ধ ।সবুজ ফল যেমনঃ আপেল, পেয়ারা ফাইবার ও
ভিটামিন কে এর ভালো উৎস। বাদামি বা ডার্ক কালার ফল যেমনঃ ডালিম ও বেরি আয়রন
ম্যাগনেসিয়াম এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট এর সরবরাহ করে।
দিনে একবার পুরো ফল খাওয়ার পরিবর্তে দুই থেকে তিন ভাগে ভাগ করে খাওয়া
ভালো। সকালে একটি প্রোটিয়ন এবং দুপুরে বা বিকেল একটি প্রোটিয়ন খাওয়া যেতে
পারে।রাতে খুব বেশি ফল খাওয়া এড়ানো উচিত, কারণ রাতের হযম শক্তি ধীর থাকে এবং
অতিরিক্ত শর্করাও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।সঠিক পরিমাণে ফল খেলে মায়ের শরীর
শক্তিশালী থাকে এবং হজম ভালো থাকে এবং শিশুর বিকাশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। তাই
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সুষমভাবে গর্ভবতী মায়েদের ফল খাবার তালিকা অনুযায়ী
ফল যুক্ত করা একান্ত প্রয়োজন।
যে ফলগুলো খাওয়া নিরাপদ নয় বা কম খাওয়া উচিত
গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ ফলই মায়ের ও শিশুর জন্য উপকারী হলেও কিছু ফল রয়েছে যা
সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত বা এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এসব ফল মায়ের হরমোনের
ভারসাম্য হজম কিংবা গর্ভে স্বাভাবিক বৃদ্ধি বিকাশে বিরুদ্ধে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই একটি নিরাপদ গর্ভবতী মায়েদের ফল খাওয়ার তালিকা তৈরি করতে গেলে কোন
কোন ফল গুলো খাওয়া বা না খাওয়া উচিত তা জানা অত্যন্ত জরুরী।প্রথমেই বলা যায়
কাঁচা পেঁপে সম্পর্কে। কাচা বা আধা পাকা পেঁপেতে লাটেস্ক নামের একটি উপাদান
থাকে যা জরায়ুতে সংকোচন সৃষ্টি করতে পারে বলে অনেক গবেষণায় উল্লেখ আছে।
তাই গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে সম্পন্ন এড়িয়ে চলা উচিত। তবে পুরোপুরি পাকা পেঁপে
স্বাভাবিকভাবে নিরাপদ হতে পারে, তবুও পরিমানে খুব বেশি নয়। আনারস নিয়ে অনেক ভুল
বোঝাবুঝি আছে। অতিরিক্ত আনারসে ব্রোমলিন থাকে, যা শরীরে এনজাইম প্রভাব
ফেলতে পারে। যদিও একবারে নিষিদ্ধ নয় তবুও গর্ভবতীরা অতিরিক্ত আনারস খাওয়া
এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে খাওয়া গেলে সাধারণ সমস্যা হয় না,
কিন্তু যাদের গর্ভঝুঁকি বেশি তারা এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।
আঙ্গুর বিশেষত গারো বেগুনি বা কালো আঙ্গুর অতিরিক্ত খাওয়া গ্যাস, হজমের
সমস্যা বাড়াতে পারে। এছাড়া আঙ্গুরের চিনি অনেক বেশি, তাই গর্ভকালিন ডায়াবেটিস
থাকলে পরিমাণ কম রাখতে হবে। লিচু আরেকটি ফল যা খুব মিষ্টি হওয়ায় রক্তের শর্করা
দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই যাদের ডায়াবেটিস বা গ্লুকোজ সহনশীলতা কম, তারা লিচু খুব
সীমিত পরিমাণে খাবেন। এছাড়াও রাসায়নিক বা মম ব্যবহার করা ফল যেমনঃ আপেল, কমলা,
নাশপাতি ভালোভাবে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। নষ্ট বা ফাঙ্গাস যুক্ত ফল
কখনোই খাওয়া উচিত নয়, কারণ সেগুলো খাদ্য বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। যে গর্ব
অবস্থায় গুরুতর ঝুকি তৈরি করে। যে কোন ফল অতিরিক্ত খাওয়ায় ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই পরিমাণ, সময় ও স্বাস্থ্য অবস্থার উপর ভিত্তি করে ফল নির্বাচন করতে হবে। কোন
সন্দেহ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরো পড়ুনঃ
মর্নিং সিকনেস এর সাহায্য করে এমন ফল
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অনেক মায়েরই মর্নিং সিকনেস বা বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা,
দুর্বলতা এবং ক্ষুধা মন্দ দেখা যায়। এ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কমাতে কিছু
নির্দিষ্ট ফল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এসব ফলে রয়েছে ভিটামিন,
খনিজ, পানি এবং প্রাকৃতিক উপাদান যার শরীরকে শান্ত রাখে বা বমির অনুভূতি কমাতে
সাহায্য করে। মর্নিং সিকনেস কমাতে সবচেয়ে উপকারী ফলের মধ্যে লেবু বা সাইট্রাস ফল
অন্নতম। লেবুর গন্ধ ও হালকা টক স্বাদ বমি কমাতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে ।কমলা,
মালটা বা জাম্বুরার মতো সাইট্রাস ফল শরীরে ভিটামিন সি সরকার করে এবং মুখে সতেজ
ভাব এনে বমি ভাব কমায়।
কলা মর্নিং সিকনেসে খুবই উপকারী একটি ফল। এতে থাকা ভিটামিন বি
৬ নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে। এছাড়া কলার পটাশিয়াম শরীরের দুর্বলতা দূর করে
শক্তি দেয়, যা মর্নিং সিকনেস এর সময় খুব দরকারি। আপেল বিশেষ করে সকালে
খেলে পেটকে শান্ত রাখে। এতে ফাইবার রয়েছে যা হজম শক্তি উন্নত করে, ফলে বমি ভাব
কমায়।অনেক মা আপেল সেদ্ধ করে বা আপলস খেও আরাম পান। তরমুজ ও কিউ কম্বার জাতীয় জল
সমৃদ্ধ ফল মর্নিং সিকনেসে চমৎকার ভূমিকা রাখে।
কারণ ডিহাইড্রেশন বমি ভাব বাড়িয়ে তোলে আর এই ফলগুলো শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে।
তরমুজের হালকা স্বাদ ও উচ্চ পানি মাত্রা বমি ভাব কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক।
স্ট্রবেরি বা অন্য বেরি জাতীয় ফল মায়ের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাড়ায় এবং
পেটে হালকা অনুভূতি দেয়, যা বমিভাব কমাতে সাহায্য করে। মর্নিং সিকনেস ফল ছোট ছোট
পরিমাণে বারবার খাওয়ায় বেশি উপকারি। খুব মিষ্টি,অতিরিক্ত টক বা ভারি ফল এ সময়
এরিয়ে চলা ভালো। সঠিক ফল নির্বাচন করলে মর্নিং সিকনেস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা
যায় এবং মা দিনে শুরুতে নিজেকে বেশি শক্তিশালী অনুভব করেন।
রক্তস্বল্পতা দূর করে এমন ফলের পরামর্শ
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া একটি সাধারনো ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যার
শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন না থাকলে মা দুর্বল হয়ে পড়েন, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি
শ্বাসকষ্ট এমন কি শিশুর বিকাশে ও প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে গর্ভকালীন সময়
পুষ্টিকর ফল খাওয়া রক্তস্বল্পকার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিছু
নির্দিষ্ট ফল রয়েছে যেগুলো আয়রন, ভিটামিন সি অন্যান্য পুষ্টি সরবরাহ করে রক্ত
দ্রুত বাড়াতে সহায়তা করে।রক্তস্বল্পতা দূর করতে প্রথমে বলা যায় ডালিম বা
বেদানা সম্পর্কে। ডালিম আয়রন সমৃদ্ধ এবং এর রস বা দানা দুভাবে খাওয়া যায়।
এটি রক্ত বাড়াতে সাহায্য করার পাশাপাশি শরীরকে শক্তি যোগায়। প্রতিদিন এক
বাটি ডালিম খাওয়া গর্ভবতী মায়ের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।আঙ্গুর বিশেষ করে লাল
আঙ্গুর আয়রন, কপার ও আন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এগুলো শরীরের রক্ত তৈরি
প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তবে যাদের ব্লাড সুগার বেশি তারা পরিমাণ একটু কম
খাবেন। আপেল রক্ত বাড়ানোর আরেকটি জনপ্রিয় ফল।এতে আয়রন কম হলেও এতে থাকা
ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে। অনেকে আপেলের সঙ্গে
বিটরুট বা ডালিম খেতে পরামর্শ দেন, যা আরো বেশি কার্যকর।
আরো পড়ুনঃ
পাচনতন্ত্র ভালো রাখতে সহায়ক ও ফল
সুস্থ জীবনের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ঠিকঠাক হজম শক্তি। আমাদের দৈনন্দিন খাবারের
তালিকায় কিছু বিশেষ ফল যোগ করলে পাচনতন্ত্র আরও সক্রিয় সুস্থ স্বাভাবিকভাবে কাজ
করতে থাকে।বিশেষ করে যেসব ফল আশ সমৃদ্ধ, আন্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর এবং প্রাকৃতিক
এনজাইম থাকে সেগুলো হজমে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। প্রথমে আসে পেঁপের কথা। যাতে
পেঁপেই নামে একটি বিশেষ এনজাইম রয়েছে যা খাবার কে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে।
এটি গ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর। পেপে নিয়মিত
খেলে পেট হালকা থাকে এবং হজমের সমস্যা কমে।এরপর রয়েছে আপেল, আপেলের বিদ্যমান
দ্রবনীয় আশ মল নরম করে এবং অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। যাদের
কোষ্ঠকাঠিন্য বা অনিয়মিত বাথরুম সমস্যা আছে তাদের জন্য আপেল বেশ উপকারী। কলা
একটি অত্যন্ত সহজ ফল এতে রয়েছে পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক ফাইবার যা পাকস্থলীর
অস্বস্তি কমে এবং হজম প্রক্রিয়া মসৃণ রাখে। বিশেষ করে ডায়রিয়া হলে কলা খুব
সাহায্য করে কারন এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।
কমলা ও অন্যান্য সাইট্রাস ফলে ভিটামিন সি ভরপুর এবং এতে প্রচুর পরিমাণে
পানি এবং হজম সহায়ক উপাদান থাকে। এগুলো পাকস্থলীর অম্লতা কমায় এবং লিভারকে
সক্রিয় করে, ফলে হজম শক্তি বাড়ে। আনারস আরেকটি শক্তিশালী হজম সহায়ক ফল। এতে
রয়েছে ব্রোমেলিন নামের এনজাইম যা প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। ভারী খাবার খাওয়ার
পর আনারস খেলে পেট হালকা লাগে। এছাড়া ডাবের পানি, আঙ্গুর, কিউই ও বিট লেবু হজম
শক্তি উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই ফলগুলো
যোগ করলে পাঁচনতন্ত্র আরও সুস্থ থাকে খাবার হজম হয় সহজে এবং শরীর থাকে
প্রাণবত্ন।
ফল খাওয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধি ও সর্তকতা
ফল আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে এটি
উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের ফল খাওয়ার তালিকা ঠিক
রাখতে এবং তাদের নিরাপদ রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গর্ভকালীন সময়ে সামান্য
অসতর্কতা ও শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।ফল খাওয়ার আগে অবশ্যই পরিষ্কার পানিতে
ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। অনেক ফলের গায়ে মাটি, ধুলা বালি বা রাসায়নিকের
অবশিষ্ট থাকতে পারে যা পেটে গিয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ঘষে ধোয়ার অভ্যাস
তৈরি করলে ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিকের ঝুঁকি কমে যায়
ফল কখনোই কাটার পর দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় রাখা উচিত নয়। এতে জীবানু জন্ম
নেয় এবং ফল নষ্ট হতে শুরু করে। তাই কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব খেয়ে নিতে হবে।
সিজনাল ও মৌসুমি ফল বেশি নিরাপদ কারণ এটির রাসায়নিক ব্যবহারের হার তুলনামূলকভাবে
কম থাকে। অনেকেই খোসা সহ ফল খেতে পছন্দ করে যেমনঃ আপেল, নাসপাতি। খোসায় আশ থাকলেও
খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
ফল কেনার সময় অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা অস্বাভাবিক বড় দেখানো ফুল এড়িয়ে চলা ভালো
কারণ এগুলো রাসায়নিক ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। বিশেষভাবে গর্ভবতী মায়েদের ফল
খাওয়ার তালিকা অনুসরণ করার ক্ষেত্রে আরো কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। খুব বেশি কাঁচা
বা অতিরিক্ত টক ফল এড়ানো উচিত। ফল সব সময় তাজা ও পরিষ্কার হতে হবে এবং যে
কোন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার সবচেয়ে নিরাপদ।
সবমিলিয়ে নিয়মিত ফল খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তেমনি
স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলে আরো নিরাপদ হয় বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের জন্য।



সুমি ডিজিটালসেরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url