ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০ টি সেরা মাস্ক

চুল নিয়ে কি খুব চিন্তিত? আর নয় রাসায়নিক পদ্ধতি প্রকৃতির ছোঁয়ায়  চুল হবে আরো মসৃণ ঘন ও উজ্জ্বল। ঘরোয়া যত্নে চুলের জাদু ১০টি মাক্সেই ফিরবে চুলের নতুন প্রাণ। আপনার রান্না ঘরের উপাদানে লুকিয়ে আছে চুলে সুন্দর হওয়ার গোপন রহস্য। আর খরচ নয় যত্নয় বদলে দেবে আপনার পুরো হেয়ার রুটিন। প্রাকৃতিক উপাদানে শক্তিতে চুল হবে নরম, সিল্কি এবং আরো শক্তিশালী। নিজের হাতে বানানো মাক্সে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন আপনার চুলের হারানো উজ্জ্বলতা।

ঘরোয়া-পদ্ধতিতে- চুলের-যত্নে- ১০- টি- সেরা- মাস্ক

ফ্রিজি,রুক্ষ, ঝরে পড়া চুল দেখে আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। কেমিক্যাল ফ্রী ১০ টি মার্কস ব্যবহারে আমরা আমাদের চুলকে দিতে পারি উজ্জ্বল, মসৃণ ও ঝলমলে রূপ। যার রহস্য আমাদের রান্নাঘরে লুকিয়ে আছে চলুন আজকে সেই লুকিয়ে থাকা রহস্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। যাদের প্রতিনিয়ত চুল পড়ে যাচ্ছে চুল রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি, যেটি পুরোপুরি শেষ করলে আপনি আপনার চুলের সমাধান পেয়ে যাবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ(ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০ টি সেরা মাস্ক)

ঘরোয়া হেয়ার কেয়ার কেন কার্যকর

ঘরে তৈরি মাস্কের উপাদান গুলো সাধারণত প্রাকৃতিক যেমন দই, ডিম, কলা, মধু, অ্যালোভেরা, নারিকেল তেল, পেঁয়াজের রস ইত্যাদি এসব উপাদান চুলের সফট করে প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টি যোগায়।  যেমনঃ ডিম চুলের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে, মধু স্কাল্পে আদ্রতা ধরে রাখে, আলোভেরা চুলের  সাইন ধরে রাখে। ফলে চুল রুক্ষ, ভঙ্গুর বা ঝরে পড়ার মতো সমস্যা অনেকটাই কমে আসে। ঘরোয়া হেয়ার কেয়ার আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী কাস্টমার করা যায়।

 যেমনঃ কারো চুল যদি খুব রুক্ষ হয় তাহলে কলা বা মধু ভিত্তিক কার্যকর, আবার যার চুল পাতলা বা ঝরে পড়ছে তার জন্য পেঁয়াজের রস উপকারী মেথির মাক্স এই ব্যক্তিগত ব্যবহারের সুবিধা।বাজারে সাধারণত এক প্রোডাক্ট এ সব পাওয়া যায় না। ঘরোয়া উপাদান ব্লাড সার্কুলেশন সুস্থ থাকলে চুল স্বাভাবিকভাবে দ্রুত বাড়ে, ঘন হয় এবং  শক্ত হয়। অনেক রাসায়নিক ভিত্তিক পণ্য সাময়িক সাইন দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে চুলকে দুর্বল করে ফেলে। কিন্তু প্রাকৃতিক উপাদান চুলের গোঁড়া মজবুত করে স্থায়ী সমাধান দেয়।

 ঘরোয়া যত্ন সাশ্রয়ী, বাসার সহজ পাওয়া উপকরণ দিয়ে চুলের যত্ন করা জায়। যা বাজারের দাম অনেক, বাসায় কম খরচে হয়। পাশাপাশি ঘরে তৈরি মাস্ক সবসময় ফ্রেশ থাকে এবং এতে কোন প্রিজারভেটিভ যোগ করতে হয় না, ফলে উপকারীতা আরো বেশি। ঘরোয়া হেয়ার কেয়ার মানসিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে নিজের হাতে যত্ন নেওয়া হয় আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়। লাগানোর মাধ্যমে চুল শুধু ভালো হয় না মনও ভালো থাকে। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক নিরাপদ সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর হওয়ার কারণে ঘরোয়া হেয়ার কেয়ার আজও সব বয়সের মানুষের কাছে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি।

আরো পড়ুনঃ

ডিম ও অলিভ অয়েল হেয়ার মাক্স

চুলের ভঙ্গরতা,রুক্ষতা এবং প্রোটিনের ঘাটতির কথা উঠলে যে ঘরোয়া  মাক্সটি সবার আগে মনে আসে তা হলো ডিমও অলিভ অয়েল এর হেয়ারমাক্স। প্রাকৃতিকভাবে চুলের গভীরে পুষ্টি জোগাতেই মাস্কটি অত্যন্ত কার্যকর এবং এটি সহজে ঘরে তৈরি করা যায়। তাই এটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে১০টি সেরা মাস্ক এর  তালিকায় অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়।ডিমে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, বায়োটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড যা ক্ষতিগ্রস্ত চুলে কিউটিকলে কাজ করে চুলকে শক্তিশালী করে।

বিশেষ করে যাদের চুল পাতলা ভেঙ্গে যায় বা রুক্ষ হয়ে পড়ে ডিম সেই চুলে প্রোটিন রিপেয়ার হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে অলিভ অয়েল প্রচুর ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট করে এবং ফারটিএসিড আছে যা চুলে দীর্ঘস্থায়ী মশ্চারাইজার ধরে রাখে এবং চুলকে নরম ও উজ্জ্বল করে।এই দুই উপাদানের মিশ্রণ চুলের রুট থেকে টিপ পর্যন্ত স্কাল্পকে পুষ্টি দেয়। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল ভেঙ্গে যাওয়া কমে, চুলের ঘনত্ব বাড়ে এবং স্কাল্পে শুষ্কতা অনেক কম অনুভূত হয়।

ডিম ও অলিভ অয়েলের ব্যবহারঃ একটি বাটিতে একটি ডিম ও দুটিতে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত লাগান ২০থেকে ৩০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি ও মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করলে চুলের সমান পরিবর্তন আসে। এই  মাস্কের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি একেবারে প্রাকৃতিক সাশ্রয় এবং সব ধরনের চুলে ব্যবহার করা যায়। তাই শুধুমাত্র পুষ্টিকর নয় ঘরোয়া যত্নের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান সেই কারণে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০ টি সেরা মাস্ক এর মধ্যে ডিম ও অলিভ অয়েলের মাক্স সেরা তালিকায় রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ

দই ও মধুর পুষ্টিকর হেয়ারমাক্স

চুলকে মসৃণ, নরম ও ফ্রিজ ফ্রি করতে দই মধুর হেয়ার মাস্ক একটি অত্যন্ত কার্যকর ঘরোয়া সমাধান।দইয়ে থাকা প্রোটিন লাকটিক এসিড ও ভিটামিন চুলের রুটকে পরিস্কার করে মজবুত রাখে। মধুর প্রাকৃতিক উপাদান চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখে ফলে রুক্ষ চুল হয় অনেক বেশি প্রানবন্ত। এসব পুষ্টিগণের কারণে এই মাস্কতি ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০টি সেরা মাস্ক এর তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

স্কাল্পে জমে থাকা মৃত কোষ দূর করে চুলকে হেলদি রাখে যা চুলে নতুন গ্রোথ বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে মধুর আন্টি অক্সিডেন্ট ও আন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান স্কাল্পের ইনফেকশন কমায় এবং হেয়ার রুটকে শক্তিশালী করে। ফলে চুল পড়া কমে এবং চুল হয় আরো ঘন স্বাস্থ্যকর। যাদের চুল খুব সহজে ফ্রিজি হয়ে যায় বা আদ্রতার অভাবে চুল নিস্তেজ দেখায় তাদের জন্য দই মধুর মাস্কটি উপযুক্ত।

দই ও মধুর পুষ্টিকর হেয়ার মাক্স এর ব্যবহার বিধিঃ একটি ছোট বাটিতে আধা কাপ টক দই ও ২ টেবিল চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন এরপর হালকা গরম পানি ও মাইলড সাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলেই চুলের স্ট্রাকচার দ্রুত উন্নত হয়। এ মাস্কের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি সব ধরনের চুলের ব্যবহার করা যায়।

বিশেষ করে ড্যামেজ  এবং ফ্রিজি চুলে এর ফল সবচেয়ে দ্রুত দেখা যায়। প্রাকৃতিক নিরাপদ এবং সহজ উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়াই এটি ঘরোয়া হেয়ার কেয়ার এর একটি চমৎকার অংশ। তাই প্রাকৃতিকভাবে চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে চাইলে দই ও মধুর মাক্স নিঃসন্দেহে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে সেরা ১০টি মাস্ক এর অন্যতম সেরা পছন্দ হতে পারে।
দই-ও-মধুর-হেয়ার-মাস্ক

এলোভেরা ও নারিকেল তেলের হেয়ারমাক্স

এলোভেরা এবং নারিকেল তেল এমন দুটি প্রাকৃতিক উপাদান যা চুলের রুক্ষ তার শুষ্কতা এবং ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণভাবে কাজ করে। অ্যালোভেরা স্কাল্পকে ঠান্ডা রাখে শুষ্ক ভাব কমায় এবং চুলের প্রাকৃতিক সাহিন যোগায়। ভিটামিন চুল পড়া কমে অপরদিকে নারিকেল তেল চুলের ভেতরে দ্রুত ঢুকে আদ্রতা ধরে রাখে এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে রিপেয়ার করেতে সাহায্য করে। এই দুই উপাদানের শক্তিশালী সংমিশ্রণ হওয়ায় এটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে সেরা ১০টি মাস্কএর  তালিকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়।

অ্যালোভেরা মাথার ত্বকের ইনফ্লামেশন কমিয়ে চুলকে স্বাস্থ্যকর ভাবে বাড়াতে সাহায্য করে। যাদের  স্কাল্প খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, খুশকি দেখা দেয় বা চুল সহজে ভাঙে তাদের জন্য এলোভেরা একটি প্রাকৃতিক হিলাড়ি হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে নারিকেল তেল ফাটি এসিড সমৃদ্ধ হওয়ায় চুলে গভীর কন্ডিশন দেয়। এটি চুলের কিউটিকল সিল করে চুলকে নরম, সিল্ক এবং ফ্রিজ ফ্রি রাখে ফলে সামগ্রিকভাবে চুলের গঠন শক্তিশালী হয়।

এলোভেরা ও নারিকেল তেলের হেয়ার মাক্স এর ব্যবহার বিধিঃ দুই টেবিল চামচ এলোভেরা জেল ও দুই টেবিল চামচ নারিকেল তেল ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে৩০-৪০মিনিট অপেক্ষা করুন, এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করলে  রুক্ষ চুল অনেকটাই মসৃণ হয়ে যায়। অ্যালোভেরা ও নারিকেল তেলের মাক্স চুলকে শুধু পুষ্টি দেয় না বরং চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে নিতে রাসায়নিক ছাড়াই চুলকে সুন্দর  রাখতে চাইলে এই মার্কস নিঃসন্দেহে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে সেরা ১০টি মাস্ক এর মধ্যে একটি শক্তিশালী পছন্দ হতে পারে।

পেঁয়াজের রস ও কাস্টার অয়েল গ্রোথ মাক্স

চুল দ্রুত লম্বা করতে এবং চুল পড়া কমাতে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রমাণিত ঘরোয়া উপাদান হলো পেঁয়াজের রস। এতে থাকা সালফার চুলের ফলিক ফলকে সক্রিয় করে এবং ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করায় অপরদিকে কাস্টার্ড অয়েল বা রেডির তেল প্রাকৃতিক ভাবে চুল ঘন করতে রুট শক্তিশালী করতে দিতে সক্ষম। তাই এই দুই উপাদানের মিশ্রণটি শক্তিশালী গ্রোথ মাক্স হিসেবে কাজ করে থাকে।

পেঁয়াজের রস স্কাল্পে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও খুশকির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এর এন্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে কে ভাঙা থেকে রক্ষা করে এবং রুট শক্তিশালী করে। যারা চুল পরে, পাতলা চুল না বাড়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য সেটি কার্যকর ন্যাচারাল ট্রিটমেন্ট অন্যদিকে কাস্টার্ড অয়েল এর ঘন স্ট্রাকচার চুলে কন্ডিশনিং দেয়। এতে রয়েছে ঋষি নলিক এসিড যা চুলের রুটকে শক্তিশালী করে এবং চুলের ঘনত্ব বাড়ায়। নিয়মিত ব্যবহার চুলে রুক্ষতা কমে যায় এবং চুল হয়ে ওঠে আরও স্বাস্থ্যকর নরম উজ্জ্বল।

পেঁয়াজের রস ও কাস্টর অয়েলের গ্রোথমাক্স এর ব্যবহার বিধিঃ দুই টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস এবং এক টেবিল চামচ কাস্টার্ড অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান।আঙ্গুলের সাহায্যে আলতো করে পাঁচ মিনিট মাসাজ করুন, এরপর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার করলেই চুলের গ্রোথের দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। পেঁয়াজের রস ও কাস্টর অয়েলের মাক্স শুধু নতুন চুল গজাতে সাহায্য করেনা বরং চুল পড়া কমায়, রুট মজবুত করে এবং চুলের প্রাকৃতিক ঘনত্ব ফিরিয়ে আনে সেই কারণে এটি নিঃসন্দেহে গ্রোথমাক্স হিসেবে বিবেচিত।

আরো পড়ুনঃ

মেথি বিজ ও দইয়ের রিকভারি হেয়ার মাক্স

চুল পড়া এবং দুর্বল চুলের রূট শক্তিশালী করতে মেথি বীজ একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান। এতে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন, নিকোটিনিক, এসিড এবং লেসিথিন যা ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে দ্রুত রিকভার করতে সাহায্য করে। অপরদিকে শীতলতা আনে মৃত কোষ দূর করে এবং চুলে নরমভাবে সাইন ফিরিয়ে আনে। এই দুটি উপাদানের শক্তিশালী মিশ্রণ চুলের সার্বিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে অত্যন্ত উপকারি। তাই এটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০ টি সেরা মাস্ক এর তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ হেয়ার রিকভারি মাস্ক।

মেথি বিজ স্কাল্পের ইনফ্লামেশন কমায় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।যাদের খুশকি এবং চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য ন্যাচারাল ট্রিটমেন্ট এ স্লিপারি স্ট্রাকচার চুলে প্রটেকটিভ কোর্ট তৈরি করে, যা স্টাইলিং বা ধুলাবাড়ির ক্ষতি থেকে চুলকে রক্ষা করে। দই এর ল্যাকটিক এসিড স্কাল্পে জমে থাকা ময়লা ও তেল দূর করে, ফলে রুট পরিষ্কার থাকে ও চুলের গ্রোথ উন্নত হয়। এছাড়া দুই উপাদান চুলকে নরম মসৃণ আরো শাইনিং করে তোলেন যা চুলের স্ট্রাকচারকে দ্রুত উন্নত করে।

মেথি বীজ ওদইয়ের  রিকভারি হেয়ারমাক্স এর ব্যবহার বিধিঃ ২  টেবিল চামচ মেথি বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সকালে পেস্ট করে তাতে আধা কাপ দই মিশিয়ে চুলে লাগান। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে। ফেলুন সপ্তাহে একবার ব্যবহার করেই চুলের রুখতা, খুশকী ও দুর্বলতা কমে যাবে। মেথি ও দইয়ের এই রিকভারি মাক্স চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে এবং চুলকে স্বাস্থ্যকর রাখে। সেই কারণেই এটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০টি সেরা মাস্ক এর অন্যতম কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত।

আরো পড়ুনঃ

কলা ও মধুর ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক

রুক্ষ শুষ্ক ও প্রাণহীন চুলকে মুহূর্তে নরম  করতে কলা ও মধুর হেয়ার মাক্স অসাধারণ ভাবে কাজ করে। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি এবং প্রাকৃতিক শুষ্কতা কমে এবং চুলকে মসৃণ করে। অন্যদিকে মধু হলো প্রাকৃতিক হিউমেকট্যানট, যা চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং চুলকে দীর্ঘক্ষন নরম রাখে। শক্তিশালী এই দুটি উপাদানের মিশ্রণ হওয়ায় এটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০টি সেরা মাস্ক।

কলা ও মধুর ডিপ কন্ডিশনিং তালিকায় অন্যতম সেরা হল কন্ডিশনিং মাক্স। কলা চুলের স্মুথ করে ফলে চুল কম জোর বাদে এবং ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাদের চুল ঘন হলেও খুব শুকনো বা একটু ফ্রিজ থাকে তাদের জন্য কলা একটি ন্যাচারাল সিল্কি এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। কলার প্রাকৃতিক অয়েল চুলের ভেতরে আর্দ্রতা পৌঁছে দেয় যা চুলকে ভিতর থেকে নরম করে তোলে। সুস্থ রাখে এবং কোন ইনফেকশন সমস্যা বা খুশকির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এটি চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এনে চুলকে উজ্জ্বল প্রাণবন্ত করে। যারা নিয়মিত স্টাইলিং করেন বা হিট ব্যবহার করেন তাদের শুষ্ক এবং ড্যামেজ চুলের জন্য কলা মধুর মাক্স উপযুক্ত।

কলা ও  মধুর ডিপ কন্ডিশনিং মাক্স এর ব্যবহার বিধিঃ একটি পাকা কলা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে তাতে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগান। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন এরপর পানি দিয়ে মাইলড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে চুল দ্রুত নরম সিল্কি ফ্রিজ ফ্রি হয়ে যায়। এই মাস্কটি শুধু চুল কমল করে না বরং স্কাল পুষ্টি যোগায় চুলের স্ট্রাকচার উন্নত করে। তাই প্রাকৃতিকভাবে চুলকে মসৃণ রাখতে চাইলে কলা মধুর ডিপ কন্ডিশনিং মাক্স ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০টি সেরা মাস্ক এর একটি অসাধারণ পছন্দ।

হেনা ও ডিমের ন্যাচারাল প্রোটিন মাস্ক

চুলের রুক্ষতা কমানো ঘনত্ব বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিকভাবে চুলকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে হেনা একটি দীর্ঘদিনের পরিচিত উপাদান। হেনাচুলে একটি প্রাকৃতিক কোট তৈরি করে যা চুলকে ভাঙা থেকে রক্ষা করে এবং চুলকে শক্তিশালী করে। অন্যদিকে ডিম হলো চুলের জন্য সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক প্রোটিন উৎস যা ক্ষতিগ্রস্ত চুলের কিউটিকল রিপেয়ার করে নতুন চুলের প্রাণ যোগায়। তাই হেনা ও ডিমের মিশ্রণটি নিঃসন্দেহে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০টি সেরা মাস্ক এর তালিকা একটি শক্তিশালী প্রোটিন ট্রিটমেন্ট কে ব্যালেন্সে রাখে ফলে চুল পড়ার ঝুঁকি কমে।

এটি চুলের রুটের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দ্রুত বাড়তে সাহায্য করে, পাশাপাশি হেনা চুল একটি ন্যাচারাল পুষ্টি যোগ করে যা চুলকে  আরো ঘন এবং স্বাস্থ্যকর দেখায়। ডিমের প্রোটিন চুলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পূর্ণ গঠন করে এবং চুলকে ভিতর থেকে শক্ত করে। এতে থাকা ভিটামিন এ, ডি ও বায়োটিন চুলকে উজ্জ্বল ভলিউম যুক্ত করে চুলকে করে  তোলে বিশেষ করে যাদের চুল পরে বেশি, ভাঙ্গে, ড্যামেজ  হয়ে গেছে  তাদের জন্য এই মাস্কটি একেবারে আদর্শ।

হেনা ও ডিমের ন্যাচারাল প্রোটিন মাক্স এর ব্যবহার বিধিঃ ২ টেবিল চামচ হেনা পাউডার পানিতে ভিজিয়ে পেস্ট করুন, তাতে একটি ডিম মিশিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন ।চুলে লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন, মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে চুলে প্রোটিনের ঘাটতি দূর হয়। হেনা ও ডিমের এই ন্যাচারাল প্রোটিন মাস্ক চুলের গভীরে পুষ্টি যোগায় ভলিউম বাড়ায় এবং চুলকে মজবুত করে। তাই প্রাকৃতিকভাবে চুলের শক্তি ঘনত্ব বাড়াতে চাইলে এটি অবশ্যই ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০ টি সেরা মাস্ক এর মধ্যে একটি উৎকৃষ্ট সমাধান।
হেনা-ও-ডিমের- ন্যাচারাল-প্রোটিন- মাস্ক


আরো পড়ুন:

আমলকি শিকাকাই ও রিঠার হারবাল মাক্স

আমলকি শিকাকাই ও রিঠা প্রাচীনকাল থেকেই চুলের যত্নের ব্যবহৃত তিনটি অসাধারণ উপাদান। এগুলো একসাথে ব্যবহার করলে চুলের ভেতর থেকে মজবুত করে চুলের ভাঙ্গন কমানো প্রাকৃতিক সাইন ফিরিয়ে আনা এবং স্কাল্পে পরিশুদ্ধ করার মতো শক্তিশালী উপকার পাওয়া যায়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০টি সেরা মাস্ক এর তালিকা অন্যতম জনপ্রিয় কারন এটি সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত সব ধরনের চুলের জন্য নিরাপদ। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা চুলের রুটকে শক্ত করে এবং হেয়ার ফল কমায়

এছাড়া এটি স্কাল্পের ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করেন। শি্কাকাই  প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে, এটি চুলকে ময়লা মুক্ত রাখে তবে প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে না। ফলে চুল থাকে নরম, সিল্কি এবং জট মুক্ত চুল। পরিষ্কার করার পাশাপাশি চুলে প্রাকৃতিক বাউন্স ও সাইন এগুলো একসাথে ব্যবহার করলে স্কাল্প ডিটক্স হয় রুট শক্ত হয় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

আমলকি শিকাকাই ও রিঠার হারবাল মার্কসের ব্যবহারবিধিঃ ২ টেবিল চামচ আমলকি গুড়া২ টেবিল চামচ শিকাকাই গুঁড়া এবং ২টেবিল চামচ রিঠা গুড়া একটি বাটিতে নিন।  গরম পানি বা রোজ ওয়াটার দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন, চাইলে এক চামচ নারকেল তেল যোগ করতে পারেন। মিশ্রণটি ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে দিন এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুল ঘন কালো শক্ত এবং চকচকে হয়। স্কাল্পে চুলকানি বা খুশকি থাকলেও এই মাস্কটি দারুন কাজ করে। তাই প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর চুল চাইলে অবশ্যই রাখতে পারেন আপনার ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ১০টি সেরা  মাস্ক এর তালিকাই।

উপসংহার (মাস্ক ব্যবহারের নিয়ম)

চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে শুধু ভালো মাক্স ব্যবহার করলেই হবে না বরং সেটি নিয়মমাফিক ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিয়ম মানা হলেই প্রতিটি উপাদানের কার্যকারিতা ঠিকভাবে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল দ্রুত পাওয়া যায়। ঘরে তৈরি যে কোন চুলের মাক্স ব্যবহারের আগে স্কাপ পরিষ্কার  রাখা  অত্যন্ত প্রয়োজন। নোংরা বা ওয়েলি থাকলে  উপকার কম হয়, বরং স্কাপ ভারী লাগতে পারে। তাই  মাস্ক ব্যবহারের আগে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে স্কাপ পরিষ্কার করে নেওয়ায় ভালো।

চুলের মাক্স সাধারণ ভেজা অথবা সেমি ওয়েট চুলে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে এতে পুষ্টি সহজে চুলে প্রবেশ করতে পারে। মাস্ক লাগানোর সময় আঙ্গুলের ডগা দিয়ে স্কাল্পে হালকা মাস্ক ব্যবহার  করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং চুলের রুট আরো শক্ত হয়। তারপর চুলের ডগা পর্যন্ত সমান ভাবে মাস্ক ছড়িয়ে দিতে হবে কারণ ডগাই সবচেয়ে বেশি চুল ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। প্রতি মাক্স চুলে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলা উচিত।

তবে অতিরিক্ত সময় রেখে দিলে স্কাপ ভারী হয়ে যেতে পারে অথবা কিছু ক্ষেত্রে চুল শক্ত হয়ে যেতে পারে। ধোয়ার সময় খুব গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয় কুসুম গরম পানি সবচেয়ে উপযোগী। চুলের কিউটিকল নরম থাকে এবং সাইন বাড়ে ।সপ্তাহে এক থেকে দুইবার মাস্ক ব্যবহার করা যথেষ্ট, খুব বেশি মাস্ক ব্যবহার করলে চুল ওভার লোড হয়ে যেতে পারে ফলে উল্টো চুল পড়া রুক্ষতা দেখা দিতে পারে। যারা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট কালার করে তাদের জন্য জরুরী, কারণ এমন চুল দ্রুত আদ্রতা হারাই।  এই মাস্কটি ব্যাবহার  করলে চুল ঘন মসৃণ এবং প্রাকৃতিকভাবে চকচকে হয়ে ওঠে।তাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ চুল পেতে নিয়মিত কিন্তু পরিমিতভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্নে ব্যবহারের সেরা উপায়।









এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সুমি ডিজিটালসেরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Sumi Akter
Mst. Sumi Akter
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সুমি ডিজিটালস এর একজন অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।