মাসে ২০০০০ টাকা ইনকাম করার ১০টি সেরা উপায়
মাসে ২০ হাজার টাকা আয়ের লক্ষ্য পূরণ করা আজকাল অনেক সহজ, যদি সঠিক উপায়গুলো
জানা থাকে। নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করলে অল্প পুজিতেও নিয়মিত ও স্থায়ী ইনকাম
তৈরি করা সম্ভব।
মাসে ২০ হাজার টাকা ইনকাম বর্তমানে শুধু চাকরির উপর নির্ভর করে নয় বরং দক্ষতা, সময় ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমেও অর্জন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই খুব কম বিনিয়োগে বা শুধু অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। নিচে এমনই ১০টি কার্যকর সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।
পেজ সূচিপত্রঃ(মাসে ২০০০০ টাকা ইনকাম করার ১০টি সেরা উপায়)
- ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন সার্ভিস প্রদান
- কনটেন্ট রাইটিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং
- অনলাইন টিউশন বা কোচিং
- ই-কমার্সও রিসেলিং ব্যবসা
- আফিলিয়েট মার্কেটিং
- গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং
- সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
- ঘরে বসে হস্তশিল্প
- ডেলিভারি বা পার্ট টাইম সার্ভিস জব
- ব্লগিং ও ইউটিউব থেকে আয়ের সুযোগ
ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন সার্ভিস প্রদান
বর্তমান ডিজিটাল যুগের ঘরে বসে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় কার্যকর মাধ্যম হলো
ফ্রিল্যান্সিং। বিশেষ করে যারা নিজস্ব সময় অনুযায়ী কাজ করতে চান বা অতিরিক্ত
ইনকাম করতে আগ্রহী তাদের জন্য এটি একটি দারুন সুযোগ। মাসে ২০০০০টাকা ইনকাম করার
১০টি সেরা উপায় এর মধ্যে ফ্রিল্যান্সিংকে সবার আগে রাখার কারণ হলো; এটি শুরু
করতে খুব বেশি পুঁজি লাগে না এবং নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত তৈরি করা
যায়।
ফ্রিল্যান্সিং মূলত অনলাইনে ক্লায়েন্টদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কাজ
সম্পন্ন করে অর্থ আয় করার প্রক্রিয়া। যেমনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব
ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, ডাটা এন্ট্রি,
ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট,সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। এসব কাজ
Fiverr,Upwork, এর মতো প্লাটফর্মে পাওয়া যায়। নতুনদের জন্য ও এসব
প্ল্যাটফর্মে ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করা সহজ এবং সময়ের সাথে রিভিউ বাড়লেও
ইনকাম স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
শুরু করার আগে নিজের একটি নির্দিষ্ট দক্ষতাই ফোকাস করার জরুরী একাধিক স্কিল শেখার
চেষ্টা করলে কাজের মান কমতে পারে। তাই প্রথমে একটি স্কিল ভালোভাবে শেখা উত্তম।
এসব জায়গায় খুব কম খরচে বা একেবারে ফ্রি শেখা সম্ভব। স্কিল শেখার পর প্রয়োজন
হয় একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও, যেখানে নিজের সেরা কাজগুলো প্রদর্শন করা যায়।
এটি ক্লায়েন্টকে আপনার দক্ষতার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনি চাইলে ফুল টাইম আবার চাইলে পার্ট
টাইমও কাজ করতে পারবেন। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী বা ফ্রি টাইম থাকা
মানুষ এই কাজ করে ভালো আয় করছেন। নিয়মিত কাজ পেলে মাসে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করা
খুবই সহজ, আর অভিজ্ঞতা বাড়লে এই আয় ৫০ থেকে ১ লাখ টাকায় উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা
থাকে।
ডিজিটাল বিশ্ব যেমন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, তেমনি ফ্রিল্যান্সিং এর চাহিদাও
প্রতিদিন বাড়ছে। তাই দক্ষতা অর্জন করে এই সেক্টরে কাজ শুরু করলে দীর্ঘমেয়াদ
একটি স্থায়ী অনলাইন ক্যারিয়ার তৈরি করা যায়। মাসে ২০০০০ টাকা ইনকাম করার ১০টি
সেরা উপায় এর মধ্যে ফ্রিল্যান্সিংকে সেরা সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ঠিক এই
কারণগুলোর জন্য।
আরো পড়ুন:
কনটেন্ট রাইটিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং
বর্তমান অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায়িক দুনিয়ায় কনটেন্ট রাইটিং এবং ডিজিটাল
মার্কেটিং দুটি অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন দক্ষতা। যে কোন ব্র্যান্ড ই-কমার্স
প্ল্যাটফর্ম বা সার্ভিস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে সফল হতে চাইলে মানসম্মত
কনটেন্ট এবং সঠিকভাবে পরিকল্পনা ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল অপরিহার্য। এ কারণেই এই
দুই সেক্টর বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার এবং অনলাইন কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য
একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
কনটেন্ট রাইটিং মূলত তথ্যবহুল,আকর্ষণীয় এবং পাঠকের উপযোগী লেখা তৈরির দক্ষতা।
ব্লগ পোস্ট, ওয়েবসাইট, কন্টেন্ট, প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন, ইমেইল কপি, সোশ্যাল
মিডিয়া পোস্ট, ক্রিপ্ট রাইটিং এইসব কন্টেন্ট রাইটিং এর অংশ। যারা লেখালেখি পছন্দ
করে নতুন বিষয় গবেষণা করতে ভালোবাসেন কিংবা ভাষার উপর ভালো দখল রাখেন তারা খুব
সহজেই এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন।
Fiverr,Upwork,Freelancer,PeoplePerHourবা Linkedin এইসব প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট
রাইটারের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে।
অন্যদিকে ডিজিটাল মার্কেটিং হল অনলাইনে কোন ব্র্যান্ড বা পণ্যকে সঠিকভাবে প্রচার
ও বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল। এর মধ্যে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং,SEO, ইমেইল
মার্কেটিং, ফেইসবুক অ্যাডস, গুগল অ্যাডস,ইত্যাদি ব্যবসায়ীরা তাদের টার্গেট
কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে অভিজ্ঞ ডিজিটাল মার্কেটদের সহয়তা নেন। ফলে দক্ষ
হলে এ সেক্টর থেকে নিয়মিত ও ভালো ইনকাম করা সম্ভব।
এই দুই দক্ষতায় কাজ করতে শুরু করলে বড় কোন বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই,
ইউটিউব,ব্লগ বা অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে শেখা যায়। শুরুতে ছোট কাজ নিলেও সময়ের
সাথে অভিজ্ঞতা বাড়লে বড় প্রজেক্ট পাওয়া যায় এবং ইনকামও দ্রুত হয়।কনটেন্ট
রাইটিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং দুটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী কারিয়ার গড়ার জন্য
দুর্দান্ত। বিশেষ করে যারা ঘরে কাজ করতে চান বা স্বাধীনভাবে আয় করতে আগ্রহী
চাইলে এই দুটি স্কিল একসাথে তৈরি করা সম্ভব।
অনলাইন টিউশন বা কোচিং
বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন টিউশন বা কোচিং একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং
স্থায়ী আয়ের উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা কোন নির্দিষ্ট
বিষয়ে দক্ষ যেমনঃ ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রোগ্রামিং বা মিউজিক তারা খুব সহজে
ঘরে বসে অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারেন। ছাত্রদের
সহায়তা করে মাসে ২০০০০ টাকা ইনকাম করার ১০টি সেরা উপায় এর মধ্যে অনলাইন টিউশন
কে অন্যতম কার্যকর মাধ্যম বলা হয়। কারণ এখানে আলাদা বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই
শুধু দক্ষতা এবং ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই শুরু করা যায়।
অনলাইন টিউশন শুরু করার জন্য বিভিন্ন প্লাটফর্ম রয়েছে যেমন চাইলে নিজস্ব
facebook গ্রুপ, পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করেও ব্যক্তিগত কোচিং পরিচালনা
করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় নির্ধারণ করে সপ্তাহে কয়েকদিন এক থেকে দুই
ঘন্টা ক্লাস নিলেও ভালো আয় করা সম্ভবনা তৈরি হয়। বিশেষ করে স্কুল কলেজের
পরীক্ষার সময় বা ভর্তি প্রস্তুতির মৌসুমে চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, ফলে আরো বেশি
ইনকাম করা সম্ভব হয়।
এ ধরনের কাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্ভরযোগ্য শেখানোর পদ্ধতি তৈরি করা
বিষয়ভিত্তিক নোট, ক্লাস প্ল্যান, নিয়মিত এসাইনমেন্ট এবং প্রশ্নোত্তর সেশন যোগ
করলে শিক্ষার্থীর আরো আগ্রহী থাকে। যাদের যোগাযোগ দক্ষতা ভালো এবং বিষয়টি সহজ
ভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন তারা দ্রুতই প্রচুর স্টুডেন্ট পেতে পারেন।এছাড়া নিজের
সুনাম তৈরির জন্য প্রথম দিকে অল্প বেতনে শুরু করা যেতে পারে রিভিউ ও শিক্ষার্থী
বাড়ার সাথে সাথে ফ্রি ও বাড়ানো যায়।
অনেকেই দেখেছেন ধারাবাহিকভাবে অনলাইন টিউশন চালিয়ে গেলে সহজে মাসে ২০ হাজার থেকে
পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি ইনকাম করা সম্ভব। এসব কারণে মাসে ২০০০০ টাকা ইনকাম করার
১০টি সেরা উপায় এর মধ্য অনলাইন টিউশন বা কোচিং কে সবচেয়ে সহযোগী নিরাপদ উপায়
গুলোর একটি বিবেচনা করা যায়।
আরো পড়ুন:
ই-কমার্সও রিসেলিং ব্যবসা
বর্তমান সময়েই ই -কমার্স ও রিসেলিং ব্যবসা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে খুব
কম পুঁজিতে শুরু করে নিয়মিত আয় করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা ঘরে বসে নিজের
সময় কাজ করতে চান তাদের জন্য এই ব্যবসাটি দারুন সুযোগ। বড় ধরনের দোকান বা
অফিস ছাড়াই অনলাইনে পণ্য বিক্রি করার সুবিধা থাকায় দিন দিন এই সেক্টরের
নতুন উদ্যোক্তাদের সংখা বাড়ছে। মাসে ২০০০০ টাকা ইনকাম করার ১০টি সেরা উপায়
তালিকায় ই-কমার্স ও রিসেলিং ব্যবসা তাই অন্যতম সেরা বিকল্প।
ব্যবসার প্রথম ধাপ হল সঠিক পণ্য নির্বাচন করা। পোশাক, কসমেটিক্স, জুয়েলারি,
ইলেকট্রনিক্স, কিচেন প্রডাক্ট এসব পণ্য চাহিদা সব সময় থাকে। চাইলে আপনি নিজে
পণ্য তৈরি করতে পারেন বা পাইকারি বাজার থেকে কিনে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।
রিসেলিং মডেল আরও সহজ হয়, এখানে নিজে পণ্য কিনতে হয় না বরং সরবরাহকারী বা
হোলসেলার থেকে পণ্য ছবি নিয়ে অনলাইনে পোস্ট করা হয়। অর্ডার পাওয়ার পর পণ্য
সংগ্রহ করে ডেলিভারি দেওয়া হয়। এতে ঝুঁকি কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ফেসবুক পেজ, ফেসবুক মার্কেটিং, ইনস্টাগ্রাম, টিক টক বা ওয়েবসাইট তৈরি করে বিক্রি
শুরু করা যায়। চাইলে Daraz, Pikaboo বা অন্য কোন মার্কেটপ্লেসেও সেলার
অ্যাকাউন্ট খুলে পণ্য তালিকাভুক্ত করা যায়। নিয়মিত পোস্ট লাইফ সেল কাস্টমারদের
দ্রুত রিপ্লাই এবং ভালো সার্ভিস এই চারটি বিষয়ে ভালো সেল পাওয়ার মুল চাবিকাঠি।এ
ব্যবসায় বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকাতেও ছোট
পরিসরে শুরু করা যায়। শুরুতে দিনে কয়েকটি অর্ডার পেলেও সময়ের সাথে সেল বাড়তে
থাকে। ধারাবাহিকতা ভালো সার্ভিস এবং গ্রাহকদের সাথে বিশ্বাস তৈরি করতে পারলে,
কয়েক মাসের মধ্যে বিশ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব।
আফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে দ্রুতগতি এবং লাভজনক উপায়
গুলোর একটি। এখানে আপনাকে কোন পণ্য তৈরি করতে হয় না এমনকি নিজের দোকান বা
ইনভেন্টরি প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বা সেবা প্রচার করে বিক্রি হলে
আপনি কমিশন পান। ঠিক এ কারণেই মাসে ২০০০০টাকা ইনকাম করার ১০টি সেরা উপায়
তালিকায় এফিলিয়েট মার্কেটিং এর অবস্থান খুবই উপরে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে প্রথমে প্রয়োজন ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল,
ব্লগ, ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট এখান থেকে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যর প্রচার লিংক
শেয়ার করবেন। কেউ আপনার লিংকে ক্লিক করে পণ্য কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। কমিশনের
পরিমাণ পণ্য ভেদে ৫% থেকে শুরু করে ৫০% বা তারও বেশি হতে পারে।বাংলাদেশে দারাজ,
আজকের ডিল, পিকাবু এবং আন্তর্জাতিকভাবে অ্যামাজন্ অ্যাসোসিয়েটস,ক্লিক
ব্যাংক,সিজে আফিলিয়েট, প্ল্যাটফর্ম। আপনি যে বিষয়ে আগ্রহী সেই সম্পর্কিত পণ্য
বেছে নেওয়ায় সবচেয়ে ভালো। এতে কনটেন্ট দলীয় প্রমোশন সহজে এবং রূপান্তর
দ্রুত হয়।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সফল হতে হলে দরকার নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি, পণ্য রিভিউ
টিউটোরিয়াল, আন বক্সিং ভিডিও তুলনামূলক আলোচনা এসব কনটেনট দর্শকদের সিদ্ধান্ত
নিতে সাহায্য করে এবং বিক্রির সম্ভাবনা বাড়া। এ ছাড়া বা সার্চ ইঞ্জিন
অপটিমাইজেশন শিখে ব্লগ বা ওয়েবসাইট গড়ে তুললে গুগল থেকে অর্গানিক ট্রাফিক
পাওয়া যায় যা দীর্ঘমেয়াদি আয় নিশ্চিত করে।
এই কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একবার সেটআপ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়ের
সুযোগ তৈরি হয়। অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটররা ঘুমানোর মধ্য ও লিংক থেকে
কমিশন পেয়ে থাকেন। শুরুতে আয় কম হলে ধীরে ধীরে কনটেন্ট ও ট্রাফিক বাড়ার সাথে
সাথে মাসে বিশ হাজার টাকার বেশি ইনকাম করা সম্ভব।
আরো পড়ুন:
গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং
গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন দুটি
স্কিল। অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য
নিয়মিত ভিজুয়াল কন্টেন্ট তৈরির প্রয়োজন হওয়ায় এই সেক্টরে কাজের অভাব নেই।
সেজন্যই মাসে ২০০০০টাকা ইনকাম করার ১০টি সেরা উপায় এর তালিকায় এই ক্ষেত্রটির
অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রাফিক্স ডিজাইন এ লোগো, ভিজিটিং কার্ড, ব্যানার, পোস্টার, সোশ্যাল মিডিয়ার
ক্রিয়েটিভ এর চাহিদা সব সময় থাকে। শুধু একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং
সফটওয়্যার জ্ঞানের মাধ্যমে খুব সহজে কাজ শুরু করা যায়। এর মত টুল ব্যবহার করে
নতুনরাও দ্রুত শিখে প্রজেক্ট নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। ছোট ব্যবসা, অনলাইন শপ,
ক্যাফে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ডিজাইনের প্রয়োজন হয় ফলে স্থায়ী
ক্লায়েন্ট পাওয়া কঠিন নয়।অন্যদিকে ভিডিও এডিটিং বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক
একটি স্কিল।
ইউটিউবার,ফেসবুক ক্রিয়েটর, টিকটকার,ব্র্যান্ড এবং বিজ্ঞাপন নির্মতাদের জন্য
নিয়মিত ভিডিও তৈরি হয়, আর এডিটরদের ভূমিকা সেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।Adobe
Premiere, Pro, Capcut,Davinci Resolveবা Final Cut Pro এসব সফটওয়্যার ব্যবহার
করে এডিটিং শিখতে শুরু করতে প্রথমে ছোট ভিডিও, শট রিলস, বা টিকটক ভিডিও দিয়ে কাজ
শুরু করা সম্ভব।এ দুই স্কুল একসাথে জানলে কাজের ক্ষেত্র আরো সুন্দর
হয়।Fiverr,Upwork,Freelancer,PeoplePerHour এর মত মার্কেটপ্লেসের ডিজাইনার এডিটর
দের চাহিদা অত্যন্ত বেশি।
শুরুতে ছোট কাজ নিলো পোর্টফোলিও শক্তিশালী হলে বড় প্রজেক্ট পাওয়া সহজ
হয়।ধারাবাহিকভাবে কাজ করে মাসে বিশ হাজার টাকা ইনকাম খুবই নিশ্চিন্তে করা
স্বাভাবিক, বরং সময়ের সাথে এই আয় তিন গুণ হওয়া সম্ভব। তাই যারা ক্রিয়েটিভ কাজে
আগ্রহী তারা গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং শিখে দীর্ঘ মেয়াদী ক্যারিয়ার তৈরি
করতে পারেন।
আরো পড়ুন:
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং উচ্চ চাহিদা
সম্পন্ন একটি অনলাইন স্কিল। প্রতিদিন লাখো ব্যবসা, ব্র্যান্ড এবং উদ্যোক্তা তাদের
সেবা বা পণ্য প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্ভরশীল। তারা যাদের ফেসবুক পেজ,
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, টিকটক প্রোফাইল বা ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করার জন্য
দক্ষ সশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার খুঁজে থাকে। ঠিক এ কারণেই মাসে ২০০০০ টাকা
ইনকাম করার ১০টি সেরা উপায় এর তালিকায় সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সহজে একটি
গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে।
এই কাজের মূল দায়িত্ব হলো কন্টেন্ট পরিকল্পনা করা পোস্ট ডিজাইনের সিডিউল
করা,নিয়মিত ইনবক্সে রিপ্লাই দেওয়া, পেজ ইন সাইড বিশ্লেষণ করা এবং বিজ্ঞাপনের
মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো। যাদের সৃজনশীলতা কনটেন্ট তৈরি করার
আগ্রহ ও গ্রাহকের সাথে সহজে যোগাযোগ করার দক্ষতা রয়েছে তারা খুব দ্রুতই এই কাজে
সফল হতে পারেন।সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট শুরু করতে বেশি কিছু লাগে না একটি
স্মার্ট ফোন বা ল্যাপটপ ইন্টারনেট কানেকশন এবংCanva,Capcut এর মত সহজ
অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। একবার পোর্টফোলিও তৈরি হলে এর মত প্লাটফর্মে ভালো
রেটের কাজ পাওয়া যায়।
পেজ এ নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড, ট্রেড অনুযায়ী রিলস বাস শর্ট ভিডিও তৈরি
কাস্টমারদের দ্রুত সারা দেওয়া এবং সঠিক সময়ে বিজ্ঞাপন চালানো, এসব কাজ করলে যে
কোন ব্যবসার উন্নতি হয় এবং ম্যানেজার দিক থেকেও আয় বারে।সাধারণত একটি পেজ
ম্যানেজ করার জন্য মাসিক ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায় এবং দুই থেকে
তিনটি পেজ ম্যানেজ করলেই সহজেই মাসে ২০হাজার টাকা বা তার বেশি আয় করা সম্ভব।
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এমন একটি স্কিল যা সময়ের সাথে আরো মূল্যবান হয়ে
উঠছে। তাই যারা ঘরে বসে স্থায়ী ও সম্ভাবনাময়ী উপায় আয় করতে চান তাদের জন্য
এটি একটি চমৎকার পথ।
আরো পড়ুন:
ঘরে বসে হস্তশিল্প
ঘরে বসে হস্তশিল্প তৈরি ও বিক্রি করা বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি আয়ের
মাধ্যম। যারা সৃজনশীল কাজে আগ্রহী বা হাতের কাজ করার দক্ষতা রাখেন,খুব সহজেই এই
কাজ থেকে নিয়মিত ইনকাম করতে পারেন।বিশেষ করে মহিলাদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত
সুযোগ, কারণ বাড়ির কাজের পাশাপাশি নিজের সময় অনুযায়ী হস্তশিল্প তৈরি করা যায়।
২০০০০ টাকা ইনকাম করার ১০টি সেরা উপায় এর মধ্য ঘরে বসে হস্তশিল্প একটি
অত্যন্ত কার্যকর ও সহজ উপায় হিসেবে বিবেচিত।
ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস
ব্যবহার করে পণ্য প্রচার ও বিক্রি করা সম্ভব। চাইলে লাইভ, রিলস, শর্ট ভিডিও
বানিয়ে অনেক গ্রাহক আকর্ষণ করা যায়। এছাড়া স্থানীয় মেলা শিল্প প্রদর্শনী
ভিডিও কাজ করো ইনকাম বাড়ানো যায়।হস্তশিল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে
প্রাথমিক খরচ কম ১ থেকে ২০০০ হাজার টাকা তে প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে ছোট পরিসরে
কাজ শুরু করা যায়।অনেকেই প্রথম মাস থেকেই ভালো ইনকাম করতে পারে।
নিয়মিত নতুন ডিজাইন মানসম্মত কাজ এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করতে পারলে খুব
সহজে মাসে বিশ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। হস্তশিল্পের মধ্যে রয়েছে
জুয়েলারি, মাটির তৈরি শোপিস, জুট ও ক্যানভাস ব্যাগ, নেকলেস, কাঁথা সেলাই হাতের
কাজের শাড়ি কাপড় কাঠের সাজ সজ্জার সামগ্রী বা উলের তৈরি পণ্য, এসব পণ্য থাকে
বিশেষ করে উৎসব বা অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিক্রি আরো বেড়ে যায়। মানুষ এখন ইউনিক বা
হ্যান্ড মেড আইটেম কিনতে বেশি আগ্রহী। তাই কম পুজি বিক্রি করার জন্য আলাদা
জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, এমন একটি কাজ যা সৃজনশীল আনন্দ দেয়
এবং পাশাপাশি স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করে দেয়।
ডেলিভারি বা পার্ট টাইম সার্ভিস জব
বর্তমান সময় ডেলিভারি জব এবং পার্ট টাইম সার্ভিস সেক্টর তরুণদের মাঝে অত্যন্ত
জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত আয়ের উৎস চান
অথবা যারা ফ্রি সময়কে কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করতে চান
তাদের জন্য এই কাজগুলো শক্তিশালী আদর্শ। তাই মাসে ২০০০০ টাকা ইনকাম করার
১০টি সেরা উপায় এর তালিকা ডেলিভারি বা পার্ট টাইম সার্ভিস জব একটি সহজলভ্য দ্রুত
আয়ের উপায় হিসেবে স্থান পায়।
ডেলিভারি জবের মধ্যে রয়েছে খাবার ডেলিভারি, গ্রোসারী ডেলিভারি পার্সেল বা
কুরিয়ার সার্ভিস ডেলিভারি বাংলাদেশ ফুডপান্ডা, পাথাও, সোব্যাংক, খাবার.কম
সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করা যায়। এই কাজের জন্য কোন
ডিগ্রী বা বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই শুধু একটি স্মার্টফোন ও কাজে ব্যবহারের
জন্য সাইকেল, মোটরবাইক দ্বারা স্কুটার থাকলে শুরু করা যায়। প্রতিটি ডেলিভারির
জন্য নির্দিষ্ট পেমেন্ট পাওয়া যায় এবং প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘন্টা কাজ করলে মাস
শেষে ভালো অংকের ইনকাম হয়।
অন্যদিকে পার্টটাইম সার্ভিস জবের মধ্যে রয়েছে হোম সার্ভিস, কাস্টমার সাপোর্ট,
সেলস প্রমোশন, মার্কেটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট,ইভেন্ট সাপোর্ট দোকানে সহকারী হিসেবে
কাজ করা বা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রোমোটর হিসেবে কাজ করা। সাধারণত দিন ভিত্তিক
পেমেন্ট দেওয়া হয় বিশেষ করে ডেলিভারি সার্ভিস যাবে, অন্যতম সুবিধা হল সময়
নিজের ইচ্ছে মত কাজ করা যায়। ফুলটাইম চাকরির চাপ নিয়ে আবার কোন সময় ইনকাম
সম্ভব অনেকেই দেখেছে নিয়মিত ডেলিভারি করলে মাসে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত
আয় করা যায়। ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে এই আয় আরো বাড়ানো সম্ভব। এই কাজগুলো
প্রয়োজন শুধু দায়িত্ববদোধ সময় মেনে কাজ করে এবং গ্রাহকের সাথে ভদ্র
ব্যবহার। এগুলো বজায় রাখলে দ্রুত রেটিং বাড়ে এবং আরও বেশি অর্ডার পাওয়া যায়।
ব্লগিং ও ইউটিউব থেকে আয়ের সুযোগ
ব্লগিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি নির্দিষ্ট টপিক বানিয়ে বাছাই
করা। যেমন রান্নার টেক রিভিউ, ভ্রমণ, স্বাস্থ্য টিপস, শিক্ষা, ক্যারিয়ার গাইড
লাইন বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত লেখা নিয়মিত মানসম্পন্ন কনটেন্ট লিখে
ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলে ধীরে ধীরে ভিজিটর বাড়তে থাকে তখন গুগল আডসেন্স, আফিলিয়েট
মার্কেটিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রথম কয়েক মাস আয় কম হলেও সময়ের সাথে
তা বাড়তে থাকে।
ইউটিউব একই সাথে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম ক্যামেরার লাইট বা স্টুডিও
সেটাপের জন্য অনেক কিছু না থাকলেও শুরু করা যায়, স্মার্টফোন বা ভাল স্ক্রিপ্ট
যথেষ্ট। ভিডিও বিষয় হতে পারে হাউ টু ভিডিও রিয়েকশন, রেসিপি, টেকনোলজি
রিভিউ, মটিভেশন বা ব্লগ চ্যানেলে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ৪ হাজার ঘন্টা ওয়াচ
টাইম পূরণ হলে ইউটিউব মনিটাইজেশন চালু হয়। এরপর অ্যাডস, শেয়ার্ড রেভিনিউ
স্পন্সারশিপ এবং অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন শুরু হয়।
ব্লগিং ও ইউটিউবের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল একবার কাজ করলে সেটি লং টার্ম ইনকাম
তৈরি করে। মানসম্পন্ন কনটেন্ট যত বেশি থাকবে তত বেশি উপার্জনের সুযোগ বাড়বে।
প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় দিলেও কয়েক মাসের মধ্য ভালো রেজাল্ট পাওয়া
যায়।এই মাধ্যমে দুটি সৃজনশীলতার চমৎকার ব্যবহার এবং নিজের দক্ষতা বিষয়ে জুড়ে
ছড়িয়ে দেওয়ার সর্বোত্তম উপায়।



সুমি ডিজিটালসেরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url