আমার বিয়ে কবে হবে -দ্রুত বিয়ে হওয়ার কিছু গোপন আমল

আমার বিয়ে কবে হবে? এইসব লিখে অনেকে আমরা গুগলে সার্চ করে থাকি। কেননা আমাদের অনেকের সময়মত বিয়ে হচ্ছে না। এ কারণে অনেকে হতাশায় ভোগেন।তাই আজকে আমরা তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার কিছু গোপন আমল সম্পর্কে জেনে নিবো ।

আমার- বিয়ে- কবে- হবে

এছাড়া আমদের সমাজে মেয়েদের সঠিক সময়ে বিয়ে দিতে না পারলে সমাজের মানুষের অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এইসব কারণে অনেকে গুগলকে প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করে; যে আমার বিয়ে কবে হবে। কিন্তু google কি তার সঠিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে? Google একটি প্রোগ্রাম, google মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোন ধারণা দিতে পারে না। গুগল শুধু বিয়ে সম্পর্কে ধারনা, বিয়ের আয়োজন, বিয়ের একটা বাজেট এসব সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে ।

পেজ সূচিপত্র ঃ(আমার বিয়ে কবে হবে)

গুগল আমার বিয়ে কবে হবে 

বিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । বিয়ে করলেই জীবনের পুরোপুরি পরিপূর্ণতা পাওয়া যায় না যদি না জীবনসঙ্গী ভালো হয়। তাই বিয়ে না হইলে হতাশায় না ভোগে আমাদের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবা উচিত কি করে আমরা সামনে এগোতে পারবো।কিন্তু আমাদের সমাজে সঠিক সময়ে বিয়ে না হইলে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া পরিবারের প্রেসারের কারণে আমরা হতাশায় ভুগি ।

এ থেকে অনেকে আমরা গুগলকে প্রশ্ন করে থাকি, আমার বিয়ে কবে হবে? কিন্তু google তার সঠিক কোন উত্তর দিতে পারে না কেননা গুগল একটি প্রোগ্রাম ।  গুগল আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের কোন ধারনা দিতে পারে না। বিয়ে শব্দটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ যা কোন যন্ত্রের অনুমান করার ক্ষমতা নেই। তাই নিজেরা হতাশায় না ভুগে, গুগলকে বিভ্রান্ত না করে আমাদের জীবনকে নিয়ে  সামনে এগোনোর চিন্তা ভাবনা করতে হবে । 

মানুষ ভবিষ্যৎপরিকল্পনা করতে ভালোবাসে। মানুষ স্বপ্ন দেখে সে বিয়ে করে সুখে থাকবে, ভালো থাকবে।সবাই জীবনে একটা ভালো জীবনসঙ্গী চায়। এর জন্য অবশ্যই আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কারণ বিয়ে বিষয়টা পুরোপুরি আল্লাহ তায়ালার হাতে, আমরা চাইলে কোন কিছু করতে পারবো না তাই হতাশ হওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ অবশ্যই উত্তম পরিকল্পনাকারী এবং তিনি ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন।

আরো পড়ুন ঃ

আমার বিয়ে কার সাথে হবে

প্রতিটি মানুষের জীবনে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি শুধু দুটি মানুষের মিলন নয়, বরং দুটি পরিবারের মধ্য একটি সুশীল সম্পর্ক ও দুটি মানসিকতার সমন্বয় ঘটায় ।তাই একটি প্রশ্ন অনেকের মনে ঘুরপাক খায় আমার বিয়ে কার সাথে হবে?

এইগুলো প্রশ্নের উত্তর গুগল বা কোন জ্যোতিষী নিশ্চিত ভাবে দিতে পারবে না । কারণ প্রতিটা মানুষের জীবনের গল্প প্রতিনিয়ত নতুনভাবে লিখা হচ্ছে । আপনার জীবনসঙ্গী কেমন হবে তার কিছুটা লক্ষণ ও জীবনের ধরন দিয়ে প্রকাশ পায় । আপনার বিয়ে এমন মানুষের  সাথেই হবে যার সাথে আপনার  চিন্তা ভাবনা ,মূল্যবোধ ও জীবনযাত্রার সাথে মিল থাকবে। যিনি আপনাকে আপনার মত করে বুঝবে, মূল্য দিবে তিনিই হয়তো আপনার ভবিষ্যতের সঙ্গী । 

জীবনসঙ্গী যে সুন্দর হতে হবে সেটা এমন কোন বিষয় নয়, আসল বিষয় হলো সম্মান। সেই মানুষকে আপনার পছন্দ করে নেয়া উচিত যে আপনাকে সম্মান করবে, মানুষের মতো করে মূল্য দিবে, আপনার কথা শুনবে,আপনাকে নিরাপদ রাখবে। সত্যি কারের সঙ্গে তো সেই যার সাথে কথা বলতে গেলে আপনার ভেবেচিন্তে বলতে হয় না যার সামনে আপনি নিজের বাস্তব রূপটাই তুলে ধরতে পারেন। দীর্ঘজীবনের পথে স্বস্তি হলো সবচেয়ে বড় সম্পর্কের ভিত্তি। 

বিয়ের সম্পর্ক টার কেবল ভালো দিক দেখলেই হয় না ।ভবিষ্যতে আপনার এমন কাউকে সঙ্গী করে নেওয়া উচিত যিনি আপনার ভুল, অভ্যাস, দুর্বলতা গুলো বুঝতে পারবেন। আপনাকে বদলাতে সাহায্য করবেন, কিন্তু কখনো চাপে রাখবেন না। অনেক সময় মানুষের বিয়ে হয়ে যায়  বন্ধুর  সাথে বা দীর্ঘদিন পরিচিত সঙ্গীর সাথে। আবার কখনো হঠাৎ করে নতুন মানুষের সাথেও আপনার বিয়ে হয়ে যেতে পারে।

 দুইটা ক্ষেত্রকে আমাদের স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। কেননা নিয়তির সবচেয়ে সুন্দর দিকটাই হল সঠিক সময়ে সঠিক মানুষকে আপনার পাশে নিয়ে আসে । বিয়েটা এমন মানুষকেই করা উচিত, যে আপনাকে হাসিখুশি রাখবে, নিরাপত্তা দিবে, শান্ত রাখবে, কঠিন সময় আপনার পাশে দাঁড়াবে ।বিয়ে বিষয়টাতে শান্তি , সহমর্মিতা, বোঝাপরা , সময় এই চারটি জিনিস থাকা খুবই দরকার। কারণ বিয়ে ব্যাপারটা সারা জীবনের ।

আরো পড়ুন ঃ  

বিয়ে  না হইলে করণীয় 

আমাদের সমাজে বিয়ে বিষয়টার গুরুত্ব অনেক। নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছালে পরিবার আত্মীয়-স্বজনরা  বিয়ের কথা তোলে। কিন্তু সবার সঠিক সময়ে জীবনসঙ্গী আসে না। কারো আগে আসে, কারো বা পরে কারো  সঠিক সময় আসলেও সে বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে না। বিয়ে না হওয়া এটা কখনো কারো জীবনের ব্যর্থতা না ।

এটা শুধু সময়ের ব্যাপার।পরিবারের প্রেসার সমাজের মানুষের কথাকে গুরুত্ব দিলে নিজের আত্মবিশ্বাস শুধু কমে যায়।তাই আমাদের মনবল দৃঢ় রাখতে হবে কেননা মনে রাখবেন সবার সময় আলাদা। কোন কিছুতে দেরি হওয়া মানেই সেটা ভুল কিছু নয়। জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত টা  বুঝে শুনে নেয়া উচিত। 

সময় মতো বিয়ে না হইলে এটা কোন নেতিবাচক বিষয় না বরং আপনারা এই সময়টিকে কাজে লাগাতে পারেন। নিজের ক্যারিয়ার গড়ুন।নিজের মানসিক শক্তি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হন। পরিবারের কাছে নিজের মতামত প্রকাশ করাটা জরুরী ,কেননা অনেক সময় পরিবারের লোকেরা বুঝতে পারেনা আপনি কি  চাচ্ছেন? কোন ধরনের মানুষ আপনার পছন্দ? কেমন বয়স বা মানুষটা আপনার জন্য ঠিক কিনা? কি শর্তে আপনি বিয়ে করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন?এগুলো বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিবারের কাছে আমাদের মতামত প্রকাশ করা জরুরী।

 আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বিয়ে বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। তাই তাড়াহুড়া করে ভুল মানুষের সাথে বিয়ে করলে জীবনে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। বিয়ে করার আগে ভবিষ্যতে বড় কোন সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে কিনা এই বিষয়টাতে লক্ষ্য রাখা উচিত। মানুষটা মানসিকভাবে অস্থির কিনা এই বিষয়গুলো বিয়ের আগে ভালোভাবে দেখে নেয়া উচিত । আমাদের প্রত্যেকেরই ধৈর্য ধারণ করা উচিত কারণ সঠিক মানুষ কখন এসে যাবে আমরা কেউই জানিনা।

 কিন্তু প্রত্যেকটা ভালো সম্পর্ক অনেক সময় নিয়ে গড়ে ওঠে। তাই আমাদের নিজের উপর বিশ্বাস রাখা উচিত ।  জীবন কখনো খালি পড়ে থাকে না সময় এলে ভালোবাসা নিজেই পথ খুঁজে নেয়। বিয়ে কখনো জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না এটা প্রত্যেকের জীবনে একটি সুন্দর অধ্যায়। যদি দিয়ে এখন না হয়ে থাকে ভবিষ্যতে আরো সুন্দর কিছু হতে পারে, এটা ভেবে আমাদের ধৈর্যধারণ করা উচিত, নিজেকে শান্ত রাখা উচিত, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নিজেকে প্রস্তুত রাখা উচিত, তাহলে  সময় মত সবকিছু আপনার দিকে এগিয়ে আসবে।

আরো পড়ুন ঃ  

তাড়াতাড়ি বিয়ের জন্য আমল

বিয়ে আল্লাহর একটি নেয়ামত। আল্লাহ তায়ালা জানেন জীবনে কখন সঠিক মানুষের আগমন করিয়ে দিতে হবে। তবে দোয়া, আমল , ইতিবাচক জীবনযাত্রা প্রত্যেকের জীবনের জন্য বরকতের দরজা খুলে দেয়।  ইসলামে কিছু আমল রয়েছে যেগুলো নিয়মিত পাঠ করলে বিয়ের পথ সহজ হয়ে যায় এবং জীবনে বরকত আসে। বিয়ের জিনিসটা পুরোপুরি আল্লাহ তায়ালার হাতে।  তবে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য পেতে প্রথম শর্তই হলো নামাজ ।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজ মানুষকে পবিত্র রাখে, দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখে , জীবনটাকে সহজ করে দেয়। যারা  নিয়মিত নামাজ আদায় করে আল্লাহ তাদের উপর বরকত দেন । 

সূরা আল -  ফুরকান আয়াত ৭৪ বেশি বেশি পড়ুন। এর অর্থ- হে আমাদের রব আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে আমাদের চোখে শীতলতা দান করো এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানাও । এই আয়াতটি প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচবার পড়ুন। দোয়া শেষে বলুনঃ আল্লাহুম্মা রুজুকনি যাওজান সালিহান/ সালিহাহ । এর অর্থ - হে আল্লাহ আমাকে নেক ও উত্তম জীবনসঙ্গী দান করুন। 

দোয়া হল প্রতিটা মুমিন ব্যক্তিদের অস্ত্র।  রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে দোয়া করলে আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে তা কবুল করেন বিশেষ দোয়া রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির  । এর অর্থ হে আমার প্রতিপালক তুমি যা কল্যাণ দাও আমি তারই মুখাপেক্ষী।

আমাদের প্রত্যেকেরই বেশি বেশি দান ছদকা করা উচিত। কেননা দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ তা'আলা মানুষের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেন। বিপদ থেকে দূরে রাখেন এবং রিজিক বৃদ্ধি করেন ।কম-বেশি করে হলেও আমরা প্রতিদিন দান সদকা করার চেষ্টা করবো । খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকা এবং তওবা করা । 

বিয়ে দেরিতে হওয়ার একটি কারণ হতে পারে গুনা, খারাপ অভ্যাস বা অবৈধ সম্পর্ক। মা বাবার কাছ থেকে বেশি বেশি দোয়া নেওয়া। কেননা প্রতিটা বাবা-মার দোয়া আল্লাহ তায়ালা  খুব দ্রুত কবুল করে নেয়। আর আমাদের উচিত  তাদেরকে খুশি রাখা। বিয়ের জন্য তাদের কাছ থেকে দোয়া নেওয়া।  সঠিক মানুষ, সঠিক সময় , সঠিক সিদ্ধান্ত এই তিনটি সমন্বয়ে আল্লাহর রহমতে হয়ে যায়।

আরো পড়ুন ঃ 

 ছেলেদের তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার আমল 

বিয়ে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বিয়ে আমার সুন্নাহ যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়

ছেলেদের ক্ষেত্রে বিয়ে দেরিতে হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে-সঠিক মানুষ না পাওয়া,     পারিবারিক বাধা, মানসিক প্রস্তুতি ইত্যাদি ইসলামে বিয়ের সম্পর্কে কিছু আমল আছে, যা পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনের সমস্ত জট খুলে দেন এবং নেককার জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দেন। 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বিয়ের তাওফিক এর প্রথম শর্ত। নামাজের সাথে মনের শান্তি দোয়া কবুল সবকিছু জড়িয়ে আছে। যে ছেলে নিয়মিত নামাজ পড়ে তার মন মানসিকতা ভালো হয়, মনের দিক থেকে সে অনেক ভালো মনের মানুষ  হয়,  খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকে, জীবনে চলার পথে আল্লাহর সহায়তা পায় । দিয়ে শুধু একটা সম্পর্ক নয় এটি সারা জীবনের একটি দায়িত্ব এই দায়িত্ব পালনে আল্লাহর সাহায্য পাইতে নামাজের কোন বিকল্প নেই ।

সূরা আল ফুরকান আয়াত ৭৪ বিয়ের জন্য সর্বোত্তম দোয়া ।যার অর্থ হে আমাদের রব আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমাদের চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের ঈমাম বানাও । ইয়া লতিফু অর্থ - অত্যন্ত কোমল পরম দয়ালু । অদৃশ্য ভাবে সাহায্যকারী আপনার বিয়ের পথে যে বাধাগুলো আসে  ইয়া লতিফু জিকির তা নরম করে দেয়। ইয়া ওয়াদুদ অর্থ ; ভালবাসার মালিক এই নামটি অন্তরে মায়া ভালোবাসার পবিত্র সম্পর্ক তৈরি করে  ।নামাজের পর একশবার করে দুই নাম পড়বেন।

তাহাজ্জত নামাজ পড়ে বেশি বেশি বিয়ের জন্য দোয়া করবেন  ।কেননা আল্লাহ তালা নিজেই বলেছেন 'জেগে আছে কে ,কে চাইবে আমার কাছে আমি তাকে দিব এটা কে শক্তিশালী উপায় বলা হয়। ইস্তেগার বিয়ের পথে আসা বাধা গুলো সরিয়ে দেয় ।যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিকার করে আল্লাহ তার জীবনের প্রতিটি চলার পথ সহজ করে দেয় । বিয়ে দেরিতে হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে তার মধ্য অবৈধ সম্পর্ক, ভুল অভ্যাস , গুনাহ , অবহেলা, হারাম সম্পর্ক ।

বেশি বেশি দান সদকা করতে হবে এটি একটি বিয়ের অন্যতম রহস্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন সদকা বিপদ দূর করে এবং রিজিক বৃদ্ধি করে।বিয়ে হল রিজিকের একটি অংশ।  সদকা করলে আল্লাহ তায়ালা কঠিন বিষয় গুলো সহজ করে দেন। প্রতিদিন আমরা কম বেশি দান সদকা  করার চেষ্টা করব ।পিতা মাতার কাছ থেকে বেশি বেশি করে দোয়া চাইবো। ইসলামে বলা আছে নেক নারীর জন্য  নেক পুরুষ ।একটি নেক পুরুষের যে সব গুণগুলো থাকা দরকার সত্যবাদী,  দায়িত্ববান,  কাজের প্রতি দায়িত্ববান ,  কারো ক্ষতি করে না ,দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করে , গুনাহ থেকে বাঁচে।  তাই আপনি যদি নিজের চরিত্র ভালো রাখেন আপনি অবশ্যই নেক জীবনসঙ্গী পাবেন ।

মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার আমল

ইসলাম বিয়ের সম্পর্কে অত্যন্ত সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।একজন ছেলে বা মেয়ের জীবনে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । শুধু এটি সামাজিক বিষয় নয়, এটি আধ্যাত্মিক নৈতিক মানসিক এবং দুনিয়া আখেরাতের উভয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ । 

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন; তোমাদের মত যারা অবিবাহিত রয়েছে তাদের বিবাহ দাও। সূরা ; ৩২

এইগুলো শুধু আমাদের জীবনে নির্দেশনা নয় বরং একটি দায়িত্বের কথা । যারা সঠিক সময়ে বিয়ে করতে চায় কিন্তু বিভিন্ন বাধার কারণে করতে পারছে না তাদের জন্য ইসলামী নির্দেশনা থাকে;  সবর করতে হবে, সাথে আমল করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করে দোয়া করতে হবে । বিয়ের ক্ষেত্রে দেরি হতে পারে এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। কিন্তু আমাদের সমাজে দেরিতে বিয়ে হওয়ার কারণে  বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। বিয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাধা আসে যেমনঃ পারিবারিক সমস্যা , কারো জন্য পাত্র বা পাত্রি না পাওয়া,  কারো জন্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতি,  কারো জন্য ভাগ্যের পরীক্ষা, যেমনই কারণ হোক না কেন এই সবগুলোই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পরীক্ষা ।এগুলো  সাময়িকভাবে ঘটে থাকে যা আমাদেরকে সবর করতে শেখায়। 

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন; আমি তোমাদের দোয়া গ্রহণ করি সূরা গাফির, আয়াত; ৬০

মানুষ যত বেশি দোয়া করে আল্লাহর কাছে চায়, আল্লাহ তার প্রতি তত রহমত বর্ষিত করেন। তাই বিয়েতে বিলম্ব হলে, হতাশা না হয়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে । কেননা জিকির,  সুন্দর নিয়ত, এর মাধ্যমেই এই বিষয়গুলো সমাধান হয় এবং তাড়াতাড়ি ভালো সম্বন্ধ নিয়ে আসে। 

তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার কিছু কোরানের দোয়াঃ 

সুরা ফুরকানের দোয়া;  হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের স্ত্রী সন্তানদেরকে আমাদের চোখের শীতলতা দান কর সুরা ফুরকান আয়াত ৭৪

 যদি কোন মেয়ে এই দোয়া পড়ে তার অর্থ; হে আল্লাহ আমার জন্য এমন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন যাকে দেখে আমার হৃদয় শান্ত হবে।

সূরা আনামের রুহানি দোয়াঃ রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুমকা মিল্লাদুঙ্কা রহমাতান এই দোয়াটি বিশেষ উদ্দেশ্যে পড়া হয় ।যাদের বিয়েতে বেশি বেশি  বাধা পড়ে তারা এই দোয়াটি প্রতিদিন ১০০বার করলে অদৃশ্য থেকে সাহায্য আসে। 

সুরা ইয়াসিন এর বিশেষ আমল  অত্যন্ত কার্যকর।প্রতিদিন সকাল বা রাতে সুরা ইয়াসিন পড়া ।শেষ আয়াতে (৩৮;৮৩) তিনবার ইয়া ফাত্তাহু, ইয়া রাজ্জাকু পড়া । আল্লাহর উপর ভরসা রাখা ।হাজারো মানুষের বিশাল অভিজ্ঞতা হলো সূরা ইয়াসিন। যা  পরলে বিয়ের রাস্তাগুলো সহজ হয়ে যায়। 

বিয়েতে বাধা দূর করার কিছু আমল ১০০ বার ইস্তেগফার আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বি।বিয়ের ক্ষেত্রে বাধা আসার কারণ দুনিয়ার বুকে অদৃশ্য গুনাহ, হিংসা, ভাগ্যের পরীক্ষা । ইস্তেগফার পড়লে রিজিক বাড়ে, নতুন যোগাযোগ তৈরি হয় , পাত্র-পক্ষের মন নরম হয়, পরিবারের বাধা কমে যায় , আল্লাহর রহমত নামতে থাকে। কেউ যদি নিয়মিত ১০০ থেকে ৫০০ বার করে আশ্চর্যভাবে সমস্যা কমতে থাকে । 

সূরা ইখলাস ৪১ বার আমল। প্রতিদিন ফজর নামাজ পর অজু করে ৪১ বার এই সূরা ইখলাস পাঠ করুন। শেষে আল্লাহর কাছে বিয়ের জন্য দোয়া করুন ।এটি অত্যন্ত শক্তিশালী আমল ।অনেকে ২১ দিনের মধ্যেই ফল পেয়ে যায় ।

দান খয়রাতের আমল - হাদিসে আসে দান বিপদ দূর করে  ।যদি কোন মেয়ের বিয়েতে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়ে তাহলে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কমবেশি করে হলেও আমরা দান খয়রাত করব, মিসকিনদের খাবার খাওয়াবো ,অনাথ মেয়েদের কে সাহায্য করবো । এইসব আমল আল্লাহর রহমতকে শক্তিশালী করে তোলে ।

নামাজের আমল দুই রাকাত নফল  ইস্তেখারা নয় হাজাতের নামাজ হাযাতের নামায মানে যে উদ্দেশ্যে আপনার হৃদয়ে গভীর চাওয়া। রাতে যেকোনো সময় দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিন  ।প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পাঠ করুন । সালাম শেষে ১০০বার ইয়া লতিফু পাঠ করুন। তারপর আল্লাহর কাছে চাইতে থাকুন, হে আল্লাহ আমাকে তাড়াতাড়ি মনের মানুষ মিলিয়ে দিন ।

তাহাজ্জুদ মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। যদি প্রতিদিন সম্ভব না হয় সপ্তাহে অত্যন্ত তিনবার হলেও আমাদের তাহাজতের নামাজ আদায় করা উচিত।বিয়েতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে পরিবার । অনেক সময় মেয়েদের বিয়ে অনেক কারণে ভেঙে যায়  যেমন;পরিবারের ভুল সিদ্ধান্ত,  অহংকার, সমমান না পাওয়ার কারণে। এক্ষেত্রে মা বাবা ও পরিবারের দায়িত্ব আল্লাহর উপর ভরসা রাখা , মেয়েদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা , সহজ শর্ত রাখা যেন কোন ভাবে বিয়ে না ভেঙে যায় , পাত্রপক্ষকে সম্মান দেখানো , মেয়েকে সাপোর্ট করা্‌ কোন প্রকার অহংকার না করা  । 

বদ নজর দূর করার আমল; মেয়েদের বিয়েতে সবচেয়ে বেশি বাধা আসে এর সবচেয়ে বেশি কারণটাই  হিংসা, ঈর্ষা ।  বদ নজর এর কিছু লক্ষণ আছে; হঠাৎ সব প্রস্তাব ভেঙে যায় , ভালো মানুষেরা আসলে অগ্র হারিয়ে ফেলে , পরিবারের মধ্য টেনশন তৈরী করে ,মেয়েরা অকারনে দুঃখী হয়ে যায় । বদ নজর দূর করতে বেশি বেশি সূরা ফালাক সূরা নাস সকাল সন্ধ্যায় তিনবার পড়তে হবে । সুরক্ষা হিসেবে আয়তাল কুসরি প্রতিদিন পড়তে হবে ।এগুলো দোয়া কালাম পড়লে আল্লাহ তাআলা সাহায্য খুব অল্প সময়ে পরিবর্তন দেখা যায়  ।

মানসিক প্রস্তুতি সবথেকে বেশি দরকার বিয়েতে।অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়েতে বিলম্বের কারণগুলো; নিজেকে কম মূল্যবান ভাবা , ভয়ভীতি কাজ করা  ,নেতিবাচক চিন্তাধারা   ভেতরে পোষণ করা, অন্যদের কথার বেশি কান দিয়ে নিজেকে হতাশ করা ,  অতীতের আঘাত পাওয়া, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি  ।নিজের ভেতরে আত্মবিশ্বাস, ভয় , ভীতি-নীতি বাচক চিন্তা ভাবনা দূর করতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলুন আমি আল্লাহর বান্দা আল্লাহ  আমার জন্য সঠিক মানুষ নির্ধারণ করেছেন।  নিজের গুণ নিয়ে ভাবুন ।

বিয়ের জন্য সর্বোচ্চ কার্য করি শক্তিশালী  ইয়া লতিফু প্রতিদিন ১৩৩ বার ।এর প্রভাব গুলো মন শান্ত  করে, সম্পর্ক সহজ করে,বিয়ের সহজ হয় । ইয়া ওয়াদুদ প্রতিদিন এক হাজার বার দুজনের ভেতর ভালো সম্পর্ক তৈরি করে ,মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে। 

শুক্রবারে কিছু বিশেষ দোয়া থাকে, যেমন জুম্মার দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বেশি দোয়া কবুল হয় তাই এই সময়টাতে বেশি বেশি দয়া করতে হবে ।

মেয়ের বিয়ে দেরি হওয়া মানে ক্ষতি নয় । মানুষ আল্লাহর পরিকল্পনা অনেক সময় বুঝতে পারেনা । বরং যার বিয়ে দেরিতে হয়েছে,  দেখা  যায় সে ভালো জীবনসঙ্গী পেয়েছে,সুখি জীবন পেয়েছে । দেরির মধ্য রহমত আছে  তাই হতাশ হওয়া যাবেনা ।বেশী বেশি দোয়া আমল আর চেষ্টা করতে হবে । দোয়া ও আমল এমন  এক চাবিকাঠী যার দরজা আল্লাহ তাআলা নিজে খুলে দেন যিনি নিয়মিত আমল করেন তার নিয়ত পুরস্কার থাকে আল্লাহতালা তার ধৈর্য বৃদ্ধি করে দেয় তার মনকে শান্ত রাখে তার রাস্তা গুলো খুলে দেয় ভুল মানুষদের থেকে রক্ষা করে। 

মেয়েদের-বিয়ে-হওয়ার-আমল

 আরো পড়ুন ঃ

 ৪০ দিনে বিয়ে হওয়ার আমল

বিয়ে বিষয়টি প্রত্যেকের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু কখনো কখনো পরিবার সমাজ বা ব্যক্তিগত কারণে বিয়েটি পিছিয়ে যায়। তখন অনেকেই হতাশা হয়ে যায় ।আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং অনেকে এক্ষেত্রে জানতে চায়- ৪০ দিনে বিয়ে হওয়ার আমল ; এটি এমন একটি আমল যার মাধ্যমে মানুষের মনকে শান্ত করে এবং জীবনে আল্লাহ তাআলার রহমত ডেকে নিয়ে আসে। 

দ্রুত বিয়ের প্রথম শর্তই হচ্ছে নিয়মিত সালাত আদায় করা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করা কারন নামাজের মাধ্যমে  যে শান্তি , রিজিক, আল্লাহতালার বরকত বাড়িয়ে দেয়। বিয়ে মূলত রিজিকের একটি অংশ । যার নামাজ ঠিক হলে বিয়ের রিজিক দ্রুত খুলতে পারে । ৪০ দিন প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময় মত আদায় করা, নামাজ শেষে মন দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট দোয়া পড়া। 

দোয়ার মধ্য বলুন;এ আল্লাহ আমার জন্য হালাল ও উত্তম রিজিক হিসেবে একটি ভালো জীবনসঙ্গী দান করুন। আমার জন্য যাকে উত্তম বলেছেন তাকে আমার জীবনে সহজ ভাবে নিয়ে আসুন।

প্রতিদিন ১০০ বার ইয়া লতিফু পড়া  এর অর্থ ; অতি দয়ালু এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে বিয়ের জট খুলে যায় এবং অদৃশ্য সাহায্য পাওয়া যায় এসব কিছু আল্লাহ তাআলার রহমত । ইয়া লতিফু ইয়া লতিফু ইয়া লতিফ শেষে তিনবার দরুদ শরীফ পাঠ করুন, নিজের বিয়ের জন্য দোয়া করুন। এই আমলগুলো অনেকেই করে যার মাধ্যমে  আল্লাহর রহমতে অনেকের কাজ সহজ হয়ে যায়।

সূরা ইয়াসিনের ৪০ দিনের আমলঃ সুরা ইয়াসিন কে কোরআনের হৃদয় বলা হয়।বরকতের জন্য একটি বিশেষভাবে উপকারী।প্রতিদিন একবার সূরা ইয়াসিন পড়ুন ।শেষ আয়াত পাঠ করুন (ফা - সুবহানাল্লাজি) আমার জন্য যেটা কল্যাণকর আপনি জানেন সেই বিয়ের ব্যবস্থা সাহস করুন অনেকে বলেন সূরা ইয়াসিন বৃদ্ধি  পাঠ করলে রিজিক বারে ,কাজ সহজ হয়ে যায় ,যার মধ্যে বিয়ে অন্তর্ভুক্ত। 

সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার সালাতুল হাজত পরুন।  দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নামাজ শেষে ১০০ বার লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ এবং নিজের জন্য বিশেষ দোয়া অন্তর থেকে ইবনে আব্বাস(রা :) বলেনঃ যে ব্যক্তি তার চাহিদা জন্য হাজতের নামাজ পড়ে আল্লাহ তার কাজে বরকত দেন। 

ফজরের পরে ১০১ বার রাব্বি ইন্নি লিমা আঞ্জালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফকির । এই দোয়াটি হযরত মুসা(রা ঃ) এর দোয়া যা আল্লাহ তাকে দ্রুত সাহায্য দিয়েছিলেন। ফজরের নামাজের পরে ১০১ বার বিয়ের জন্য বিশেষ দোয়া ।এই দোয়া রিজিক,  সংসার সব ক্ষেত্রে উপকারী  । 

যে সন্তান মা বাবার প্রতি সদয় তার জীবনের বরকত বাড়ে। বিয়ের সম্পর্কেও মা-বাবার পরামর্শ নেওয়া,  তাদের দোয়া অনেক বেশি দরকার জিবনে।  তাদের কাছে দোয়া চাওয়া, মা-বাবার দোয়া দ্রুত কবুল হয়।

অন্যর বিয়ের জন্য দোয়া করার রাসুল সাঃ বলেছেন তুমি যে অন্যের জন্য দোয়া করবে ফেরেশতারা তোমার জন্য তেমন দোয়া করবে ।তাই প্রতিদিন এক মিনিট অন্যদের বিয়ের জন্য দোয়া করবেন। এটা আপনার নিজের বিয়ের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করবে যা অত্যন্ত শক্তিশালী । 

নিজের চরিত্র ও ইস্তেগফার বৃদ্ধি করতে হবে ।গুনাহ মানুষের রিজিক আটকে দেয়, সম্পর্কের জর তৈরি করে ।  তাই ৪০ দিন নিয়মিত ১০০ থেকে ৩০০ বার ইস্তেগফার, চরিত্র সুন্দর , শালিনভাবে জীবন জাপন , আচরণ ঠিক করতে হবে্‌ হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকতে হবে, বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, অহংকার কখনোই ভিতরে আনা যাবে না কেননা অহংকার ধ্বংসের মূল কারণ  ।কোরআনে বলেছেন ইস্তেগফার করলে আল্লাহ তোমাদের রিজিক,  সন্তান, বৃষ্টি সব বৃদ্ধি করে দিবেন । 

দান  সদকা করলে জীবন থেকে অনেক সমস্যা দূর হয়ে যায় , বিপদ কেটে যায়। ৪০ দিন প্রতিদিন অল্প করে  হলেও পাঁচ থেকে দশ টাকা দান ছদকা করুন। নিয়ত করুনঃ হে ,আল্লাহু আমার বিয়ের পথে বাধা থাকিলে সরিয়ে দিন । আমল করার পাশাপাশি বিশ্বাস রাখতে হবে আল্লাহ যেভাবে এবং যে সময় আমাকে বিয়ে দেবেন সেটাই সবচেয়ে ভালো । হতাশা, দুশ্চিন্তা, নীতিবাচক চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে থাকতে হবে, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখতে হবে ।

৪০ দিন যেভাবে আমল করবেন এবং জীবন পরিচালনা করবেন; নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন ,  ১০০ বার ইয়া লতিফু  পাঠ করবেন,  ১০০ থেকে ৩০০ বার ইস্তেগফার পাঠ করবেন, একবার পুরো সুরা ইয়াসিন পাঠ করবেন , এক মিনিট অন্যের বিয়ের জন্য দোয়া করবেন , শালীনভাবে জীবন যাপন করবেন , সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সালাতুল হাজত পড়ার চেষ্টা করবেন , বিয়ে মানুষের জীবনে একটি সুন্দরতম অধ্যায় । আপনি মন থেকে দোয়া করলে অবশ্যই আপনি বিবাহিত জীবনে সুখী হতে পারবেন।  আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে তাহলে ইনশাল্লাহ আপনার বিয়ের পথ সহজ হয়ে যাবে। এবং উত্তম জীবনসঙ্গী  পাবেন । 

 সাত দিনে বিয়ে হওয়ার আমল 

বিয়ের ক্ষেত্রে দেরি হওয়া অনেকেরই পরীক্ষা। কিন্তু আল্লাহ যাকে চান তাকে মুহূর্তেই রাস্তা খুলে দেন। নিজের আমলটি নিয়মিত আন্তরিকভাবে করলে ইনশাল্লাহ অল্প সময়েই ভালো সমাধান আসে ।কেউ কেউ সাতদিনের মধ্যেও ফল পেয়ে থাকেন এটি আল্লাহর রহমত। প্রতিদিন ১০০ বার ইস্তেগফার পাঠ করুন।আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন ওয়া আতুবু ইলাহি।ইস্তেগফার রিজিক,ভাগ্য, সম্পর্ক সব দরজা খুলে দেয়।এটি বিয়ের বাধা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর আমল।

সুরা ইখলাস ৪১ বার পাঠ করুন সাত দিন।ফজরের নামাজের পর অজু করে ৪১ বার সূরা ইখলাস পড়ুন।শেষে আল্লাহর কাছে বলুন,হে আল্লাহ আমার জন্য উপযুক্ত স্বামী/স্ত্রী নির্ধারণ করে দিন।এ আমল বহু মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত ফল এনেছে।ইয়া লতিফু ১৩৩ বার পাঠ রুন। প্রতিদিন যে কোন সময় ১৩৩ বার ইয়া লতিফু পাঠ করুন।ইয়া লতিফু এ নামের বারাকাতে কঠিন বিষয় সহজ হয়, মানুষের মন নরম হয়,বিয়ের দরজা খুলে যায়।

 রাতে দুই রাকাত নফল হাজতের নামাজ পরুন। রাতে ঘুমের আগে দুই রাকাত নফল নামাজ ও সালামের পর ১০০ বার ইয়া ওয়াদুদ পরুন। তারপর নিজের বিয়ের জন্য দোয়া করুন, ওয়াদুদ নামের শক্তি সম্পর্ক, স্নেহ,ভালোবাসা সহজ ভাবে তৈরি করে।সাত দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন ১০ টাকা হলেও গরিবদেরকে দান করুন ।দান বিপদ, বাধা, অদৃশ্য সমস্যা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে। বিশ্বাস নিয়ত ও দোয়া এই তিনটি জিনিস আমাদের মধ্যে থাকতে হবে। আমল শুধু মাধ্যম, ফল দেন আল্লাহ। তাই হতাশ হবেন না। আমল করতে করতে নিয়ত পরিস্কার রাখুন, হে আল্লাহ আমার জন্য যাকে সবচেয়ে ভালো তাকেই তুমি পাঠাও। ইনশাআল্লাহ সাত দিনের মধ্যেই ভালো পরিবর্তন অনুভব করবেন।
সাত-দিনে-বিয়ে-হওয়ার-আমল

তিন দিনে বিয়ে হওয়ার আমল

বিয়ে মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যা আল্লাহর নির্ধারিত মুহূর্তে ঘটে থাকে। আপনার বিয়ে কবে হবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তবে কিছু বিষয় বুঝলে বুঝা যায় যে বিয়ের সময় কাছাকাছি আসছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের আগ্রহ বাড়া, উপযুক্ত প্রস্তাব আশা, মনের মধ্য স্থিরতা তৈরি হওয়া এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সহজ হয়ে যাওয়া।অনেক সময় আল্লাহ মানুষের জীবনের দেরি করে দেন জেনো ভালো মানুষটি আসে, ভুল সম্পর্ক থেকে রক্ষা পায় কিংবা ভাগ্যে যে সুখ নির্ধারিত রয়েছে তা সঠিক সময় পৌঁছাতে দেরি হতে পারে।

এটা একটা পরিক্ষা, আবার দ্রুত হতে পারে রহমত।যে ব্যক্তি নিয়মিত দোয়া করে ,ইস্তেগফার পড়ে, নিজের চরিত্র ও জীবনের লক্ষ্য ঠিক রাখে তার বিয়ের রাস্তা দ্রুত খোলে ।বিশেষ করে ইস্তেগফার, ইয়া লতিফু, ইয়া ওয়াদুদ, সূরা ইখলাসের আমল। এগুলো মানুষের ভাগ্য আশ্চর্য পরিবর্তন আনে। দোয়া করলে আল্লাহ সহজে পথ তৈরি করেন।বাস্তব দিক খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারকে জানানো  আশেপাশের বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনকে জানানো । এসব করলে উপযুক্ত মানুষটির সাথে পরিচয় পথ সহজ হয়। নিজের মানসিক প্রস্তুতি, ইতিবাচক মনোভাব, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের যোগ্যতা উন্নয়ন এগুলো বিয়ের সময়ে কে কাছে আনে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আল্লাহ যাকে যার জন্য নির্ধারণ করেছেন ঠিক তার সময়ে তাকে পাঠাবেন ।তাই হতাশ হওয়ার নয় বরং আমল দোয়া ও চেষ্টা চালিয়ে যাইতে হবে ।সঠিক মানুষটি আপনার জীবনে আসবে যখন সময়টি সত্যি আপনার জন্য ভালো হবে।
 

উপসংহার

মানুষের জীবনে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ।এটি শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয় ।  এটি শান্তি, একটি পরিপূর্ণতা এবং সুন্দর পথ । বিয়ের জন্য সঠিক সময় কখন বা কিভাবে আসবে আমরা কেউই বলতে পারি না  ।এটি আল্লাহতালা নির্ধারণ করে রেখে দিয়েছেন । আমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে আমার বিয়ে কবে হবে কবে?  কবে এই সুন্দর মুহূর্ত আমার জীবনে এসে আমার জীবনটাকে সুখে আনন্দে ভরে তুলবে ।এই প্রশ্নের উত্তর গুলো আমরা যতই জানার ইচ্ছা পোষণ করি না কেন আমাদের মনে রাখতে হবে আল্লাহ সেই মুহূর্তটিকে বেছে নেন যা তার বান্দার জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর ।


অনেকের বিয়ে সঠিক সময় না হওয়ায় পরিবারের চাপে পড়তে হয়। সমাজের মানুষের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় । এতে মন খারাপ করা যাবে না, আল্লাহর উপরে ভরসা রাখতে হবে ।বেশি বেশি দোয়া পড়তে হবে । আল্লাহর কাছে চাইতে হবে, নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে,  বিয়ের জন্য বিশেষ কিছু দুয়া কোরানে আছে যা নিয়মিত পাঠ করতে হবে।

তারপরেও যদি দেরি হয় তাহলে নিজের ভাগ্যের উপর দোষারোপ করে কিংবা তার দোয়া কবুল হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন।  কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে কোন দোয়া কখনো অকারণ যায় না।  প্রতিটি দোয়ায় আল্লাহ শোনেন, সংরক্ষণ করে ,  সঠিক সময় পুরস্কার ফিরিয়ে দেন।  বিয়ে কবে হবে প্রশ্নের উত্তরের পিছনে অসীম রহমত রয়েছে ।  কখন বান্দার জীবনে কোন মুহূর্তটি এনে দিতে হবে, আপনার কেমন জীবনসঙ্গী সাথে বিয়ে হইলে আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে দুটোই সুন্দর হবে।

নামাজ দোয়া আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বেশী বেশী চাইতে বলেছেন ।দোয়া , নামাজ এইগুলো মূল চাবিকাঠি যার দরজা আল্লাহ তাআলা নিজেই খুলে দেন।  আমল করার পাশাপাশি নিজের মন পরিষ্কার রাখতে হবে, আশা হারানো যাবে না , নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে থাকতে হবে । একটা দোয়া কারীর দোয়া তখনই দ্রুত কবুল হয় যখন তার মন পরিষ্কার থাকে , সে সৎপথে থাকে এবং আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ আস্থা রাখে ।

 আমল মূলত আপনার আল্লাহর দিকে মনোযোগ ফেরানোরএকটি সুযোগ । আপনি যত বেশি আল্লাহর দিকে ফিরবেন তত বেশি আপনার জীবনে বরকত দিবেন ।  আপনি নিজের উন্নতি করবেন আপনার চরিত্র সুন্দর করবেন  আল্লাহ ততো  আপনাকে তার রহমতের মত নিবিড়ভাবে আশ্রয় দিবেন ।ঠিক  তখনই আপনার জীবনে নতুন  সম্পর্ক,  নতুন জীবন শুরু হবে। তাই জীবনের কোন পর্যায়ে কখনোই হতাশ না হয়ে আল্লাহর উপর আস্থা রাখুন এবং বেশি বেশি দোয়া পড়ুন আল্লাহর কাছে চান আজকে আপনার কাছে যেটা অজানা ভবিষ্যতে সেটাই আপনার জিবনে  সবচেয়ে বড় সুখের কারণ হতে পারে।

সবশেষে যে প্রশ্নে অনেকের মনে ঘোরাফেরা করে সেই প্রশ্নটি হল; আমার বিয়ে কবে হবে? এর প্রকৃত উত্তর আমরা কেউই জানিনা। তাই আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা রেখে , দোয়া কালাম ও চরিত্র ঠিক রেখে চলাফেরা করতে হবে । আল্লাহ তখনই আপনাকে একটি উত্তম জীবনসঙ্গী দিবেন যখন আপনি শালীনভাবে চলাফেরা করবেন আপনার চরিত্রের দিকে নজর রাখবেন  ।এসব চিন্তা ভাবনা করে অদৃশ্য গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, সৎ পথে চলুন , আল্লাহর নিশ্চয়ই আপনাকে শুনছেন, দেখছেন এবং অপেক্ষা করছেন উপযুক্ত মুহূর্তের জন্য। 


    

 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সুমি ডিজিটালসেরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Sumi Akter
Mst. Sumi Akter
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সুমি ডিজিটালস এর একজন অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।