ওজন কমাতে কাঠ বাদাম বা চিনা বাদাম খেতে চাচ্ছেন? কিন্তু বুঝতে পারছেন না কোনটা
সবথেকে বেশি কার্যকরী। যদি সে বিষয়ে জানতে চান যে কাঠবাদাম নাকি চীনা বাদাম বেশি
উপকারী। তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।
কাঠবাদাম এবং চীনা বাদাম দুটোই আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। এটি খেলে আমাদের
শরীরের রোগ বালাই দূর হয়। এটি আমাদের শরীরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। কাঠ
বাদাম এবং চিনা বাদামে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে।
পেজ সূচিপত্র ঃওজন কমাতে কাঠবাদাম নাকি চিনা বাদাম বেশি উপকারী
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বাদাম দুটো উপকারী কাঠবাদাম ও চিনা বাদাম। তবে তাদের
পুষ্টি, ফ্যাটের ধরন, ক্যালরি, হজমের পার্থক্যের কারণে কোনটি বেশি উপযোগী তা
নির্ভর করে আপনার শরীর খাবারের অভ্যাস ও লক্ষ্য অনুযায়ী। নিচে তুলনামূলকভাবে
ব্যাখ্যা করা হলো
ক্যালোরি তুলনাঃ
কাঠবাদাম; ১০০গ্রামে প্রায় ৫৫০ -৫৭০ ক্যালোরি
চিনাবাদাম; ১০০গ্রামে প্রায় ৫৬০ -৫৯০ ক্যালোরি
দুটির ক্যালরি প্রায় কাছাকাছি, তাই শুধু কালরির দিক থেকে কোনটি
উল্লেখযোগ্যভাবে কম নয়
ফ্যাটের ধরনঃ
কাঠবাদামে মনো আনসাটুড়েটেড ফ্যাট বেশি। যা ওজন কমাতে সহায়ক ও দীর্ঘ সময়
পেট ভরা রাখে।
চিনা বাদামে মনোআনসাটুরেটেড ও পলিআনসাটুরেটেড ফ্যাট দুটি থাকে। তবে এতে ওমেগা
-ছয় বেশি যা বেশি পরিমাণে খেলে প্রদাহ বাড়তে থাকে।
প্রোটিন তুলনা ঃ
চিনাবাদামে প্রোটিন বেশি(১০০গ্রামে ২৫ গ্রাম)
কাঠবাদামে থাকে প্রায় ২১ গ্রাম
প্রোটিন ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে । এইখানে চিনাবাদাম কিছুটা এগিয়ে।
ফাইবার তুলনা ঃ
কাঠবাদামে ফাইবার বেশি যা হজম উন্নত করে ওখুদা কমে যায়।
চিনাবাদামে ফাইবার কম ।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ফাইবার যুক্ত খাদ্য বেশি কার্যকর তাই কাঠবাদাম এগিয়ে।
অন্যান্য উপকারঃ
কাঠবাদামে ভিটামিন ই ম্যাগনেসিয়াম ও আন্টি অক্সিডেন্ট বেশি যা মেটাবোলিজম
শক্তিশালী করে। চিনা বাদামের রেসভেরাটেল ও প্রোটিন আছে যা শক্তি বাড়ায়ও বেশি
ধরে রাখতে সাহায্য করে।
হজম ও এলার্জি বিষয়ঃ
অনেকে চিনা বাদামে এলার্জি দেখা যায়। আবার নুন মেশানোর চিনা বাদাম ওজন কমে না
বরণ বাড়ায়। কাঠবাদাম ভিজিয়ে খেলে সহজে হজম হয় ও পেট ভরা থাকে।
ওজন কমাতে কাঠবাদাম সামান্য বেশি উপকারী; কারণ ফাইবার বেশি, ক্ষুধা কম রাখে, গুড
ফ্যাট বেশি, ফ্যাট বার্নিং বাড়াই, ভিটামিন ই ম্যাগনেসিয়াম ও মেটাবোলিজম উন্নত
করে, কম প্রদাহ ও সৃষ্টি করে। তবে চীনা বাদাম ও উপকারী যদি লবণ ছাড়া হয়। চীনা
বাদাম যদি ভাজা না হয়, অল্প পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ টি খাইলে সে ক্ষেত্রে চিনা
বাদাম শরীরের জন্য উপকারী। প্রতিদিন চার থেকে ছয়টি ভেজানো অথবা ১০ -১৫ টি
চিনাবাদাম পরিমাণে ওজন কমাতে যথেষ্ট।
কাঠবাদাম এমন একটি পুষ্টিকর। খাবার যা হাজার বছর ধরে মানব স্বাস্থ্যের জন্য
উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এটি শুধু সুস্বাস্থ্যই নয় বড় নীতি রয়েছে,
প্রোটিন স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভিটামিন খনিজ ও আন্টি অক্সিডেন্ট এর শক্তিশালী
সমন্বয়। নিয়মিত পরিমাণ মতো কাঠবাদাম খেলে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে
ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। নিচে কাঠ বাদামের প্রধান উপকারিতা গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে
ধরা হলো;
হৃদ যন্ত্রযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য দুর্দান্তঃ
কাঠ বাদামে রয়েছে মনোআনসাটুরেটেড ও পলিআনসাটুরেটেড যা ভালো ফ্যাট
নামে পরিচিত। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি ক্রাস করে ।বিশেষ করে
খারাপ কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও
এর ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন এ হৃদপিণ্ডকে আরো সুরক্ষা করে।
মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায়ঃ
কাঠ বাদামকে অনেকেই ব্রেইন ফুড বলেন,এতে থাকা রিবোফ্লাভিন ও এল- কানিটিন
মস্তিস্কের স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে। সৃতিশক্তি বাড়ায় এবং শেখার সক্ষমতা উন্নত করে
।শিশুদের মস্তিস্কের বিকাশ ও প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রেইন ফাংশন স্বাভাবিক রাখতে
কাঠবাদাম অত্যন্ত কার্যকরী।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সহায়কঃ
কাঠ বাদাম রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ফাইবার
ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রক্তে গ্লুকোজেন দ্রুত বৃদ্ধি ঠেকায়। যারা
ডায়াবেটিসের ভুগছেন তারা খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ কাঠ বাদাম খেলে আরো ভালো ফল
পেতে পারেন।
ওজন কমাতে সহায়তা করেঃ
যদিও কাঠবাদামে ক্যালরি আছে তবুও তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ এতে থাকা
ফাইবার প্রোটিনের স্বাস্থ্যকর ।দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে ফলে অনর্থক নাস্তা বেশি
খাবার খাওয়া কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া
ব্যক্তিদের খুদা কম লাগে এবং মেটাবলিজম ও ভালো থাকে।
চুলের জন্য উপকারীঃ
ভিটামিন -ই সমৃদ্ধ কাঠ বাদাম ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো।
এটি ত্বককে উজ্জ্বল নরম ও মসৃণ করতে সাহায্য করে । আন্টিঅক্সিডেন্ট তত্ত্বে ফ্রি
রেডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ।চুলের জন্য কাঠ বাদাম উপকারি কারণ এতে থাকা
বায়োটিন ও ম্যাগনেসিয়াম চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমায়।
হার ও দাঁত শক্তিশালী করেঃ
কাঠ বাদামে রয়েছে ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ফসফরাস ও জিংক । যা হার ও
দাঁতকে শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে হার
ক্ষয় অস্টিওপোরোসিস এবং দাঁতের সমস্যা কম দেখা দেয়।
হজম শক্তি উন্নত করেঃ
কাঠবাদামের ফাইবার হজম তন্ত্র কে সক্রিয় রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য
প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি অন্তের থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে
অন্তের সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে বিভিন্ন সংক্রামক প্রদাহ থেকে রক্ষা করে।
ভিটামিন ই,ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী
করে তোলে।
প্রতিদিন চার থেকে ছয়টা কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খেলে শরীরের জন্য উপকারী। তবে
অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয় ।কারণ এতে ক্যালরি বেশি। নিয়মিত সুষুম খাদ্যের অংশ
হিসেবে কাঠবাদাম আপনাকে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে
পারে।
কাঠবাদাম বা আলমন্ড হলো এমন একটি সুপার ফুড জা পুষ্টিগুনে ভরপুর। ছোট এই
বাদামে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ যা শরীরের
নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে ।প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কাঠবাদাম খেলে
শরীর পায় উচ্চমাত্রায় শক্তি ও পুষ্টি ।নিচে কাঠবাদামের পুষ্টিগুণ বিস্তারিত
ভাবে উল্লেখ করা হলোঃ
উচ্চমানের প্রোটিনঃ
কাঠ বাদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্লান্ট বেসদ প্রোটিন থাকে । প্রতি 100
গ্রাম কাঠবাদামের প্রায় ২০ থেকে ২২ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এই প্রোটিন পেশী
গঠন, হরমোন তৈরি ও কোষ পূর্ণ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। যারা নিরামিষভোজী তাদের
জন্য কাঠবাদাম একটি শক্তিশালী প্রোটিন উৎসাহ।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটঃ
কাঠ বাদামে রয়েছে মনো আনসাটুরেট ও পলি আনসাটুরেট ফ্যাট।যা হৃৎপিণ্ড এর
জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে ট্রান্সফার নেই সাটুরেটেড ফ্যাট ও খুবই কম।এই
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে,শক্তি যোগায় এবং
মস্তিষ্কের স্নায়ুকে সুস্থ রাখে।
ভিটামিন ই সমৃদ্ধঃ
ভিটামিন ই একটি শক্তিশালী আন্টি অক্সিডেন্ট যার শরীরের কোষকে ফ্রি
রেডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। কাঠ বাদামে প্রায় ২৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই থাকে,
যা ত্বক চুল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।এটি
ত্বককে উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতেও সাহায্য করে।
ফাইবারঃ
কাঠবাদাম ফাইবারের অন্যতম ভালো উৎস ।প্রতি ১০০ গ্রামে ১২ থেকে ১৪ গ্রাম
ডায়েটারি ফাইবার থাকে যা হজম শক্তি উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং
অন্তের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি বাড়ায়। এ ছাড়া ফাইবার রক্তের শর্করার মাত্রা
নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সঃ
কাঠবাদামের রিবফ্লাভিন(B2) নিয়াসিন(B3) ফলেট(B9)থিয়ামিন (B1) সহ
বিভিন্ন ভিটামিন বি থাকে। এই ভিটামিন গুলোর শক্তি উৎপাদন স্নায়ুতন্ত্রের
কার্যক্রম মস্তিষ্কের উন্নতি এবং রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শক্তিশালী খনিজঃকাঠ বাদামে অনেক প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে যেমন -
১। ম্যাগনেসিয়ামঃ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পেশী ও স্নায়ু শক্তিশালী
করে
২। ক্যালসিয়ামঃ হার ও দাঁত মজবুত করে
৩। ফসফরাসঃকোষ ও হার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ
৪। পটাশিয়ামঃ হৃৎপিণ্ড ও কিডনি স্বাভাবিক কাজ বজায় রাখে
৬। জিংকঃ চুল , ত্বক ,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানঃ
কাঠ বাদামের খোসায় প্রচুর আন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে এগুলো শরীরের কমাতে
সাহায্য করে এবং কোষের বার্ধক্য বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে ।বিশেষভাবে এতে থাকা
ফেনলিক যৌগ শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
কম কার্বোহাইড্রেটঃ
কাঠবাদামে কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলক কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি
উপকারী এর গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম,ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না।
ক্যালরি ও শক্তিঃ
কাঠ বাদাম ক্যালরিতে সমৃদ্ধ হলেও এটি শরীরের স্বাস্থ্যকর শক্তি যোগায়
।৫৭৫ ক্যালোরি থাকে যার শরীরের দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে
।
কাঠবাদামে প্রোটিন ভালো ফ্যাট, ভিটামিন ই, ফাইবার , ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও
বিভিন্ন খনিসহ অসংখ্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে।প্রতিদিন চার থেকে ছয়টি ভেজানো
কাঠবাদাম খেলে শরীর শক্তি পায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ত্বক চুল ভালো থাকে
এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখে।
কাঠবাদাম খাওয়ার অপকারিতা
কাঠবাদাম পুষ্টিগুণে ভরপুর হলে অতিরিক্ত ভুলভাল খেলে এর কিছু
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিকর দিক দেখা দিতে পারে। অনেকের ধারণা কাঠবাদাম
যত বেশি খাবো তত বেশি উপকার পাব।কিন্তু বাস্তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।নিচে
কাঠবাদাম খাওয়ার অপকারিতা বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হলো।
অতিরিক্ত ক্যালরি ওজন বৃদ্ধিঃ
অতিরিক্ত ক্যালরিতে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৫৭৫ ক্যালোরি থাকে। যারা
প্রতিদিন বেশি পরিমাণ কাথঠবাদাম খান তাদের শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বাড়ার
ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে একসাথে ১৫ থেকে ২০টির বেশি বাদাম খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন
হয়ে পড়তে পারে।
হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারেঃ
অনেকের শরিরে কাঠবাদাম সহজে হযম হয়না । এতে থাকা ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর
ফ্যাট বেশি পরিমানে খেলে পেট ফাপা,গ্যাস,কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ব্যথা হতে পারে।
এছাড়া খোসা সহ বেশি বাদাম খেলে কিছু মানুষের অন্তরে জ্বালা বা অসস্তি দেখা
দেয়।কাঠবাদাম একটি সাধারণএলাজেন ।যাদের থ্রি - নট এলার্জি আছে তারা কাঠ বাদাম
খেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে ।যেমন -চুলকানি,ফুসকুড়ি,
গলা ফুলিয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট,বমি বা মাথা ঘোরাএগুলো গুরুতর
অ্যানাফাইলাক্সিস হতে পারে ।যা জীবন ঘাঁটি তাই এলার্জি থাকলে কাঠ বাদাম সম্পূর্ণ
এড়িয়ে চলা উচিত।
অতিরিক্ত অক্সালেট সমস্যাঃ
কাঠ বাদামে অক্সালেট থাকে। যারা কিডনিতে পাথর সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য বেশি
অক্সালেট ক্ষতিকর হতে পারে। বেশি বাদাম খেলে কিডনিতে ক্যালসিয়াম অক্সালের জমে
নতুন পাথরের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভিটামিন ই অতিরিক্ত গ্রহণঃ
কাঠবাদাম ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। যদিও ভিটামিন ই উপকারী, কিন্তু অতিরিক্ত খেলে মাথা
ঘোরা, দুর্বলতা, ঝাপসা দেখা, ডায়রিয়া হতে পারে। যারা প্রতিদিন সাপ্লিমেন্ট এ
ভিটামিন ই নেন তাদের কাঠবাদাম সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
গাইট্রোজেনিক উপাদানঃ
কাঁচা কাঠ বাদামে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। যা থাইরয়েড হরমোনের কার্যক্রমের
প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও পরিমাণ কম তবে যাদের থাইরয়েড সমস্যা আছে তারা অল্প
পরিমানে বা ভেজানো অবস্থায় খাইতে পারে।
শিশুদের জন্য শ্বাস্র্রদের ঝুঁকিঃ
ছোট শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ কাঠ বাদাম বিপদজনক হতে পারে। কারণ তারা ভুল ভাবে
কামড়ালে বাদামের টুকরো গলায় আটকে যেতে পারে। তাই তিন বছরের নিচে শিশুদের
কাঠবাদাম পুরোটা না দিয়ে পেস্ট বা গুরু করে দেওয়া নিরাপদ।
অনেকে মনে করেন কাঠবাদাম লো - কার্ভ এর জন্য উপযুক্ত। তবে বেশি খেলে
কার্বোহাইড্রেট জমে ডায়েটের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে ।এর ফলে শরীরে কিটোসিস
ভেঙ্গে যেতে পারে।
যদিও কাঠবাদাম পুষ্টিগুনে অসাধারণ কিন্তু অতিরিক্ত বা অযত্নে খেলে হজম সমস্যা
এলার্জি অতিরিক্ত দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন চার থেকে ছয়টি ভেজানো কাঠবাদাম ই
যথেষ্ট। যাদের অ্যালার্জি বা কিডনি থাইরয়েড সমস্যা আছে তাদের সাবধানতা অবলম্বন
করা উচিত। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে সীমিত পরিমান কাঠবাদাম খাওয়ার সব সময়
সবচেয়ে নিরাপদ।
চিনা বাদামে থাকা পুষ্টিগুণ
চিনা বাদাম একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সুপার ফুড। ছোট এ বাদামে রয়েছে
প্রোটিন,স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজ শরীরের শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিনাবাদামের প্রধান পুষ্টিগুলো
তুলে ধরা হলো ;
উচ্চমানের প্রোটিনঃ
চিনা বাদামে প্রোটিনের পরিমাণ খুবই বেশি ।প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২৫ থেকে ২৬
গ্রাম প্রোটিন থাকে। যা পেশী শক্তিশালী করে টিসুপূর্ণ গঠন এবং শরীরে এনজাইম
তৈরিতে সহায়তা করে। যারা সাশ্রয়ী প্রোটিন উৎসব চান জন্য চিনা বাদাম
খুবই উপকারী।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটঃ
চিনাবাদামে মনু আনসাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা হৃদপিন্ডের জন্য ভালো। এই গুড ফ্যাট
রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ।তবে এতে ওমেগা ছয় বেশি থাকে
অতিরিক্ত খেলে প্রদাহ বাড়তে পারে।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সঃচিনা বাদামে থাকে
১। নিয়াসিন
২।ফুলেট
৩।থিয়ামিন
৪।রিবোফ্লোবিন
এগুলো শরীরের শক্তি উৎপাদন ব্রেইন ফাংশন ও রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে।
চিনা বাদামে ভিটামিন ই ও রেসভেরাট্রল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা কোষকে
ফ্রি রেডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুস্থ রাখে। চিনা বাদামের খনিজ
উপাদানের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম,ফসফরাস এগুলো হার রক্ত হৃদপিণ্ড
স্নায়ু ও ইউনিয়ন সিস্টেম শক্তিশালী করে।চিনা বাদামে ভালো পরিমাণে ডায়েটারি
ফাইবার থাকে যা হজম শক্তি বাড়ায়ও, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। চীনা বাদাম হচ্ছে
শক্তি প্রোটিন স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভিটামিন ও খনিজের সাশ্রয় উৎসাহ। নিয়মিত অল্প
পরিমাণে খেলে শরীরের শক্তি বাড়ে, বেশি শক্তিশালী হয় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য
ভালো থাকে।
আরো পড়ুন:
চিনা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা
চিনা বাদাম পুষ্টিতে ভরপুর একটি খাবার। যা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে
হৃদপিন্ডের সুরক্ষা পর্যন্ত নানা উপকারে আসে ।এটি সস্তা হলেও এর স্বাস্থ্য গুণ
অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
শক্তি ও পেশি বৃদ্ধি
চিনা বাদামে উচ্চ পরিমাণ প্রোটিন থাকে যা পেশি গঠন, শক্তি বাড়ানো ও শরীরের
টিস্যু পূর্ণগঠনে সহায়তা করে ।খেলাধুলা বা ভারী পরিশ্রমকারী ব্যক্তিদের
জন্য এটি একটি কার্যকরি স্ন্যাক।
হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যকর রক্ষাঃ
চিনা বাদামে মনো আনস্যাচুরেটেড ও পলি আনসাচুরেটেড হৃদয়ের জন্য উপকারী। খারাপ
কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়কঃ
ফাইবার ও প্রোটিনের কারণে চীনা বাদাম দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে অপ্রয়োজনীয়
খাবার খাওয়া কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের জন্য উপকারীঃ
চিনা বাদামে থাকা নিয়াসিন ও রেসভেরাট্রেল মস্তিস্কের
কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ,স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ব্রেন কে সক্রিয়
রাখে।
হজমে সাহায্য করেঃ
চিনা বাদামে ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা
করে।
নিয়মিত অল্প পরিমাণ লবণ বিহীন চিনা বাদাম খেলে শক্তি, পেশি, হৃদপিণ্ড ও হজম
সবকিছুই উন্নতি হয়।
আরো পড়ুন:
চিনা বাদাম খাওয়ার অপকারিতা
চিনাবাদাম পুষ্টিকর হলে অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খেলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা
দিতে পারে। বিশেষ করে ভাজা, নুন মেশানো বা সংরক্ষিত চীনা বাদাম স্বাস্থ্য ক্ষতি
করতে পারেন। নিচের এর প্রধান অপকারিতা গুলো তুলে ধরা হলোঃ
ওজন বৃদ্ধিঃ
চীনা বাদামে ক্যালরি ও ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ।ছোট করে অল্প বুঝে খাওয়া
হলেও অনেকে খেতে খেতে বেশি খেয়ে ফেলেন। এতে অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমে ওজন
বাড়তে পারে।
গ্যাস পেট ফাঁপা ও হজম সমস্যাঃ
চিনা বাদাম অনেকের শরীরে সহজে হজম হয়না ।এতে থাকা ফ্যাট ও ফাইবার বেশি পরিমাণে
খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, বুক জ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে ভাজা বাদাম তো আরো
সমস্যা তৈরি করে।
বাদাম এলার্জিঃ
চিনা বাদাম অন্যতম সাধারণ অ্যাালারজ্রেন। অনেকেই চিনাবাদাম খেলে
যাদের চিনা বাদামে এলার্জি আছে তারা পরিমাণে বেশি খেলে চুলকানি হতে পারে। এছাড়া
অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে, মুখ গলা ফুলে ওঠে, অনেক সময় বমি বমি ভাব দেখা
দিতে পারে, অতিরিক্ত পরিমাণে খাইলে অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে গায়ে লাল লাল রাশ
বের হতে পারে এর মত প্রতিক্রিয়া পেতে পারেন।গুরুতর ক্ষেত্রে এলার্জি প্রাণঘাতীয়
হতে পারে।
লবণ ও তেল যুক্ত চিনা বাদামের ক্ষতি বেশি।বাজারে ভাজা ও লবণযুক্ত চেনাবাদাম
পাওয়া যায়। যেগুলো খেলে যাদের প্রেসার আছে তাদের বৃদ্ধি পায়, অনেকের ওজন বেড়ে
যায়, হৃদরোগের ঝুঁকি দেখা দেয়। এগুলো অস্বাস্থ্যকর তেল অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকে।
চিনা বাদামে ছত্রাক জন্মালে আলাটক্সিন নামক বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়, যা লিভারের
ক্ষতি করতে পারে। পুরনো বাসার স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখা বাদামে এ ঝুঁকি
বেশি।
চিনা বাদামে ওমেগা ছয় ফার্টি এসিড বেশি থাকে ।অতিরিক্ত খেলে শরীরে
প্রদাহ বাড়াতে পারে। যা ত্বক জয়েন্টের সমস্যা তৈরি করতে পারে।চীনা বাদাম উপকারী
হলেও অতিরিক্ত খাওয়া, ভাজা বা নোনতা বাদাম বেছে নেওয়া কিংবা এলার্জি থাকলে
গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প পরিমাণ লবণ বিহীন শুকনা ভাজা বা কাঁচা
বাদামি সবচেয়ে নিরাপদ।
আরো পড়ুন:
ওজন কমাতে বাদাম আমাদের কতটুকু সাহায্য করে
বাদাম সাধারণত ক্যালরি সমৃদ্ধ হলেও পরিমান মত খেলে ওজন কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে
সাহায্য করতে পারে ।কারণ এতে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যার
শরীরকে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়া কমিয়ে দেয়। নিচে
বাদাম কিভাবে ওজন কমাতে সহায়তা করে তা ব্যাখ্যা করা হলোঃ
খুদা কমায় ও তৃপ্তি বাড়ায়ঃ
বাদামে থাকা ফাইবার ও গুড ফ্যাট ধীরে হজম হয়। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, এতে
বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। যা ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে।
মেটাবলিজম বৃদ্ধি করেঃ
আলমন্ড, ওয়ালনাট,চিনা বাদাম সহ বিভিন্ন বাদামে ম্যাগনেসিয়াম ও স্বাস্থ্যকর
ফ্যাট থাকে যা শরীরে মেটাবলিজম কে সক্রিয় রাখে। মেটাবলিজম ভালো হলে শরীর দুটো
ক্যালরি পোড়ায় ফলে ওজন কমা সহজ হয়।
প্রোটিন বেশি ধরে রাখতে সাহায্য করেঃ
বাদামে প্রচুর প্রোটিন আছে। প্রোটিন বেশি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করে, আর পেশি যত
বেশি থাকে শরীর তত দ্রুত ক্যালোরি বার্ন করে এ কারণে বাদাম খেলে ফ্যাট কমে
কিন্তু পেশি ঠিক থাকে যা স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর মূল অংশ।
ব্লাড সুগার ব্যালেন্স রাখেঃ
বাদামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় খাওয়ার পর রক্তের শর্করা দ্রুত
বারে না। এতে হঠাৎ ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ কমে যায়, যা ওজন
নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
অতিরিক্ত খেলে বিপরীত ফলঃ
তবে মনে রাখতে হবে বাদাম ক্যালোরি ডেন্স। অতিরিক্ত খেলে ওজন কম তো দূরের কথা বরণ
বাড়তে থাকে তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরী।
ওজন কমাতে প্রতিদিন বাদামের আদর্শ
কাঠবাদাম ৪ থেকে ৬ টি
চিনা বাদাম ১০ থেকে ১৫টি
ওয়ার্ল্ড নাটক ১থেকে ২ পিস
কাজুবাদাম ৩ থেকে ৪
পরিমাণ মতো খেলে খুদা নিয়ন্ত্রণ, মেটাবলিজম বৃদ্ধি, ব্লাড সুগার ব্যালেন্স ও
পেশি রক্ষণ। এইসব মিলিয়ে বাদাম সত্যিই ওজন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
কাঠ বাদাম ও চীনা বাদাম কখন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী
কাঠ বাদাম চিনা বাদাম দু ধরনের বাদামি পুষ্টিগুনে ভরপুর, তবে এগুলো ঠিক সময় খেলে
শরীরে আরো বেশি উপকার পায়। সকালবেলা নাস্তার আগে বা নাস্তার সাথে বাদাম খাওয়া
সবচেয়ে উপকারী। সকালে শরীরের বিপাকক্রিয়া দ্রুত কাজ করে, ফলে বাদাম স্বাস্থ্যকর
ফ্যাট ও প্রোটিন দীর্ঘ সময় শক্তি যোগায় এবং ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে
কাঠবাদাম সকালে খেলে স্মৃতি, ত্বক ও হজমের জন্য ভালো কাজ করে।
ব্যায়ামের আগে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা আগে কিছু চিনা বাদাম বা বাদাম খেলে শরীরে
শক্তি বৃদ্ধি পায়। কারণ এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন শক্তি ধরে রাখতে
সাহায্য করে। দুপুরে খাবারের এক থেকে দুই ঘন্টা পর ৫ থেকে ৮টি কাঠবাদাম বা অল্প
পরিমাণ চিনা বাদাম খেলে হঠাৎ ক্ষুধা কমে যায় এবং অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার
প্রবণতা কমে।
রাতে শোবার আগে বাদাম খাওয়ার দরকার নেই, কারণ বাদামের ফ্যাট হজম হতে সময় লাগে।
ফলে কারো কারো গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে চার থেকে পাঁচটি ভেজানো কাঠবাদাম
অনেকের ঘুম ভালো করতে সাহায্য করতে পারে।
সকাল দুপুরের মাঝামাঝি ও ব্যায়ামের আগে ছোট পরিমাণ বাদাম খাওয়াই সবচেয়ে
স্বাস্থ্যকর।
উপসংহার(ওজন কমাতে কাঠবাদাম নাকি চিনা বাদাম বেশি উপকারী)
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কাঠবাদাম ও চিনা বাদাম দুটোই উপকারী। তবে উপকারের ধরন
ভিন্ন, তুলনা করলে কাঠ বাদাম সামান্য বেশি কার্যকর। কারণ কাঠ বাদামে থাকে কম
কার্বোহাইড্রেট, বেশি ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন মিনারেল। যা দীর্ঘক্ষন
পেট ভরা রাখে ও অযথা খিদে কমায়। এ ছাড়া কাঠবাদাম রক্তে চিনির মাত্রা
নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ফলে হঠাৎ মিষ্টি খাওয়ার কমে। এসব বিষয় ওজন কমাতে
দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চীনা বাদামও অনেক উপকারী। এতে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শক্তি দেয় এবং খুদা কমায়। তবে চিনা বাদামে ক্যালরি একটু
বেশি এবং অনেক সময় ভাজা বা ননযুক্ত চিনা বাদাম খাওয়ার ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে
যায়।যা ওজন কমানোর পথে বাধা হতে পারে।
সুতরাং, ওজন কমাতে কাঠ বাদাম তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।তবে সীমিত পরিমানে খেলে
চীনা বাদামও ভালো বিকল্প। মূল কথা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদিন পাঁচ থেকে আটটি
কাঠবাদাম বা এক মুঠো ১৫ থেকে ২০ টি চিনাবাদাম ই যথেষ্ট ।সঠিক খাদ্যাভাস ও
ব্যায়ামের সাথে বাদাম খেলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া আরো দ্রুত হয়।
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সুমি ডিজিটালস এর একজন অ্যাডমিন।
তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।
৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।
সুমি ডিজিটালসেরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url